কলকাতা: ইডি অভিযানে যখন রাজ্য রাজনীতিতে আই প্যাক প্রসঙ্গ (Mamata Banerjee)নিয়ে তীব্র উত্তেজনা, ঠিক সেই সময়েই কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর এক ‘উচ্চারণ বিভ্রাট’ নতুন করে আগুনে ঘি ঢালল। দেশের ক্রীড়াজগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা কলকাতা ময়দানের দুই ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের নাম ভুল করে উচ্চারণ করে বসলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য।
আইএসএল শুরুর ঘোষণার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ‘মোহনবাগান’-কে বলে ফেলেন ‘মোহনবেগান’ এবং ‘ইস্টবেঙ্গল’-কে ‘ইস্টবেগান’। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়, শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।
শোকের ছায়া ময়দানে, প্রয়াত ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার
কেবল তৃণমূল কংগ্রেসই নয়, দেশের ক্রীড়াজগতের একাংশও কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর এই আচরণে ক্ষুব্ধ। শতাব্দীপ্রাচীন দুই ফুটবল ক্লাবের নাম সামনে থাকা কাগজ দেখেও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে না পারাকে অনেকেই ‘অসম্মান’ বলেও আখ্যা দেন। এই আবহেই বৃহস্পতিবার গঙ্গাসাগর মেলার ট্রানজিট পয়েন্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই নাম না করে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্রীড়াজগতের বিভিন্ন সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে গিয়ে মমতা বলেন, “আমার ধন্যবাদ কলকাতার তিনটি ক্লাবকে, যাদের নাম নাকি দিল্লির স্পোর্টস মিনিস্টার উচ্চারণও করতে পারেন না!” তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকাসনে হাসির রোল ওঠে, কিন্তু রাজনৈতিক বার্তাও ছিল স্পষ্ট।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী আইএসএলে অংশ নেওয়া রাজ্যের তিন ক্লাব মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিংয়ের সাফল্য কামনা করেন। তিনি বলেন, “মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিং যারা আইএসএল-এ খেলবে, তাদের জন্য আমার অনেক শুভকামনা। আমি চাই ওরা সবাই ভালো করে লড়ে জিতে আসুক।”
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহনবাগানের সচিব সৃঞ্জয় বসু, প্রেসিডেন্ট দেবাশিস দত্ত, ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার-সহ ক্রীড়াজগতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। ওই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন স্বীকৃত ২৯টি রাজ্য ক্রীড়া সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা দিতে রাজ্য সরকার মোট ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে।
প্রতিটি সংস্থার হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়ে মমতা বলেন, “আপনারা সব সময় বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ভালো পারফরম্যান্স করছে। আমরা চাই ভবিষ্যতে আরও ভালো করুক।”
কেন এই দিনটিকেই ক্রীড়াজগতের আর্থিক সহায়তার জন্য বেছে নেওয়া হল, তার ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। আমরা প্রতিবছরই কয়েক দিন আগে থেকে অনুষ্ঠান শুরু করি। বিবেকানন্দ বলেছিলেন, গীতা পাঠ করার থেকেও ফুটবল খেলা শ্রেয়। খেলাধুলোর মধ্য দিয়ে চরিত্র গঠন হয়, স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস তৈরি হয়।”
এদিকে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর উচ্চারণ বিভ্রাট নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এক্স হ্যান্ডেলে কড়া বার্তা দেয়। সেখানে লেখা হয়, “বাংলার শতাব্দীপ্রাচীন দুই ফুটবল ক্লাবের নাম প্রাপ্য সম্মানের সঙ্গে উচ্চারণ করতে পারেন না ক্রীড়ামন্ত্রী। ‘মোহনবেগান’ নয়, ওটা মোহনবাগান। ‘ইস্টবেগান’ নয়, ওটা ইস্টবেঙ্গল।” সব মিলিয়ে, একটি ‘উচ্চারণের ভুল’ই ফের রাজ্য ও কেন্দ্রের রাজনৈতিক সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিল। ফুটবলপ্রেমী বাংলা মনে করছে, এটি শুধু শব্দের ভুল নয় এটি আবেগ, ইতিহাস এবং সম্মানের প্রশ্ন।




















