Rahul Gandhi: ট্রাম্পের চাপ সামলাতে মোদীর ‘হাত বাঁধা’, বিস্ফোরক রাহুল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক নীতিকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
Rahul Gandhi Criticizes PM Modi Over Trump Tariffs, Cites Indira Gandhi’s Leadership

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক নীতিকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী মোদি “আত্মসমর্পণ” করেছেন। সোশ‌্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করে রাহুল গান্ধী ক্যাপশন দেন, “ফারাক বুঝো স্যারজি”, যেখানে তিনি নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বশৈলীর সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দৃঢ়তার তুলনা টানেন।Rahul Gandhi

সম্প্রতি হাউস GOP মেম্বার রিট্রিটে দেওয়া এক বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি নাকি তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার কাছে এসেছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?’” এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়া থেকে তেল কেনা “বড় মাত্রায়” কমানোর পরও ভারত এখন উল্লেখযোগ্য শুল্কের মুখোমুখি হচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাহুল গান্ধী মোদি সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

   

ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী সরাসরি বিজেপি-আরএসএসকে আক্রমণ করে বলেন, “আমি এখন এই বিজেপি-আরএসএস লোকদের খুব ভালো করে চিনে গেছি। সামান্য চাপ দিলেই, একটু ধাক্কা দিলেই ওরা ভয়ে পালিয়ে যায়। ট্রাম্প ওখান থেকে ইশারা করতেই ওরা ফোন তুলে বলল—‘মোদি জি, আপনি কী করছেন?’ তারপর নরেন্দ্র মোদি ‘জি হুজুর’ করে ট্রাম্পের নির্দেশ মেনে নিলেন।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাহুল গান্ধী বোঝাতে চেয়েছেন, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক চাপের সামনে দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ।

রাহুল গান্ধীর মতে, ভারতের মতো একটি সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আরও শক্ত অবস্থান নিতে হত। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইন্দিরা গান্ধীর আমলে আন্তর্জাতিক শক্তির চাপের সামনে ভারত কখনও মাথা নত করেনি। “ফারাক বুঝো স্যারজি” মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আসলে দেশের নেতৃত্বের মানসিকতা ও সাহসিকতার পার্থক্য তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, ইন্দিরা গান্ধী হলে এই ধরনের পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেন। এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন” ও “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এত সরল নয় যে একতরফা বক্তব্য দিয়ে তার বিচার করা যায়। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোদি সরকার ভারতের স্বার্থ রক্ষায় সবসময় সচেষ্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধীর আক্রমণ ২০২৪-পরবর্তী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শুল্কনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে দেশের ভেতরে যে প্রশ্নগুলি উঠছে, তা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

 

 

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google