বাংলাদেশে হিন্দু খুনের রিপোর্ট প্রকাশ্যেই আনতে চায়নি সংবাদমাধ্যম

কলকাতা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একের পর এক (Bangladesh)হামলার ঘটনা ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যম। অভিযোগ উঠছে, শুরুতে হিন্দু বসতিতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও হুমকির ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh-attacks-on-hindus-media-silence

কলকাতা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একের পর এক (Bangladesh)হামলার ঘটনা ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যম। অভিযোগ উঠছে, শুরুতে হিন্দু বসতিতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও হুমকির মতো গুরুতর ঘটনাগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের বহু মিডিয়া সংস্থা নীরব থেকেছে বলেই দাবি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একাধিক জেলায় হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনা সামনে আসে। প্রথমদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনাগুলিকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বা ‘ব্যক্তিগত বিরোধ’-এর তকমা দিয়ে গুরুত্ব কমানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কোথাও আবার ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখই করা হয়নি।

   

টিয়াগো আলভেজকে ছাড়ল কেরালা ব্লাস্টার্স, পারস্পরিক সিদ্ধান্তে বিচ্ছেদ

ফলে প্রকৃত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে পৌঁছয়নি। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে তখনই, যখন একের পর এক অগ্নিসংযোগের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উঠে আসে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই নীরবতাই অপরাধীদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যখন হামলার খবর চাপা পড়ে যায়, তখন অভিযুক্তরা আরও সাহস পায় এবং নির্যাতিতরা ন্যায়বিচারের আশা হারিয়ে ফেলে। বাংলাদেশের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকও স্বীকার করেছেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় মিডিয়ার ভূমিকা সবসময় প্রশ্নাতীত নয়। অনেক সময় রাজনৈতিক চাপ, সামাজিক সমীকরণ কিংবা ‘সংবেদনশীলতা’-র অজুহাতে সত্যকে আড়াল করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব তখনই বাড়ে, যখন দেখা যায় শুধুমাত্র একটি বা দুটি গ্রাম নয়, বরং একাধিক এলাকায় পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। কোথাও মন্দির ভাঙচুর, কোথাও দোকানপাট জ্বালিয়ে দেওয়া এই সব ঘটনার মিলিত ছবি সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগ প্রকাশ শুরু হয়। এরপরেই কিছু বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম বাধ্য হয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। সংবাদমাধ্যমের কাজ শুধু খবর পরিবেশন নয়, বরং ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে সত্য বলা। কিন্তু যখন নীরবতা নীতি নেওয়া হয়, তখন সেই নীরবতাই পরোক্ষভাবে অপরাধকে আড়াল করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যালঘু নির্যাতনের মতো বিষয়কে যদি শুরুতেই গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হতো, তাহলে হয়তো হামলার ধারাবাহিকতা রোখা যেত।

ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠন দাবি করেছে, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য, বিষয়টি কোনও দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্ন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক সমাজের একাংশও চাইছেন, দেশের মিডিয়া আরও সাহসী ভূমিকা নিক এবং ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তার প্রশ্নে একক অবস্থান গ্রহণ করুক।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে একটি বিষয় নীরবতা কখনও নির্যাতিতদের রক্ষা করে না। বরং তা অপরাধীদের আড়াল করে এবং নতুন করে হিংসার পথ খুলে দেয়। সত্য প্রকাশের দায়িত্ব সংবাদমাধ্যমের, আর সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা সেই কঠিন বাস্তবতাকেই আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google