Home Politics মতুয়াদের স্বস্তি দিয়ে CAA সার্টিফিকেট বৈধ হিয়ারিংএ

মতুয়াদের স্বস্তি দিয়ে CAA সার্টিফিকেট বৈধ হিয়ারিংএ

Bihar Incident a Front, Real Target Is Bengal Polls: Sagarika Ghosh
Bihar Incident a Front, Real Target Is Bengal Polls: Sagarika Ghosh

কলকাতা: মতুয়া সমাজকে বড় স্বস্তি দিয়ে বৈধতা পেল সিএএ (CAA certificate validity) সার্টিফিকেট স্টেট ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনী শুনানিতে এই সার্টিফিকেটকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও যদি কেউ Form 6-এর সঙ্গে CAA সার্টিফিকেট পেশ করতে পারেন, তবে তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর জেরে বাংলায় কার্যত একটি NRC-সদৃশ ফিল্টার চালু হয়ে গেল কি না, তা নিয়েই তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ হাজার CAA আবেদনকারী সার্টিফিকেট পেয়েছেন। তাঁদের একটি বড় অংশই বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থী, যাঁদের মধ্যে মতুয়া সম্প্রদায়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। প্রশাসনের দাবি, SIR শুনানির জন্য ডাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। ফলে এই সিদ্ধান্তে মতুয়াদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

   

আচমকাই দৌড় থেমে গেল বাগানের আইলিগ জয়ী ফুটবলারের

কীভাবে কাজ করছে এই প্রক্রিয়া? খসড়া ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। সেখানে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় CAA সার্টিফিকেটকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে মান্যতা দেওয়ায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে পারছেন। সেই সঙ্গে Form 6 জমা দিলে নাম যুক্ত হচ্ছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। অর্থাৎ, নাগরিকত্ব প্রমাণিত হলে ভোটাধিকার নিশ্চিত।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই প্রক্রিয়া বাংলায় কার্যত এক ধরনের ডি-ফ্যাক্টো NRC-র মতো কাজ করছে। কারণ, একদিকে যেখানে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীরা নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার পাচ্ছেন, অন্যদিকে যাঁরা বৈধ নথি দেখাতে পারছেন না, তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এটি “নীরব নাগরিকত্ব যাচাই” প্রক্রিয়া।

তবে প্রশাসনের বক্তব্য, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, SIR কোনও NRC নয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই শুনানি হচ্ছে। CAA আইন অনুযায়ী যাঁরা নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়াই স্বাভাবিক।

মতুয়া সমাজের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে তাঁরা নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকারের অনিশ্চয়তায় ভুগেছেন। এখন CAA সার্টিফিকেটের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটল। একজন মতুয়া নেতা বলেন, “আমরা এই দেশের নাগরিক হিসেবে বাঁচতে চাই। ভোট দেওয়ার অধিকার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই সিদ্ধান্তে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিরোধীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে “অনুপ্রবেশকারী” চিহ্নিত করার নামে প্রকৃত নাগরিকরাও বাদ পড়তে পারেন। বিশেষ করে যাঁদের কাছে জন্মসূত্র বা নাগরিকত্বের পর্যাপ্ত নথি নেই, তাঁরা সমস্যায় পড়তে পারেন বলে দাবি।

সব মিলিয়ে, বাংলার রাজনীতিতে এই ইস্যু নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সামনে নির্বাচন থাকায় ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাগরিকত্ব প্রশ্ন অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। একদিকে মতুয়া সমাজের স্বস্তি, অন্যদিকে NRC-সদৃশ ফিল্টারের আশঙ্কা এই দ্বন্দ্বই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে। “গেম অন” এই বার্তাই যেন স্পষ্ট।

Follow on Google