ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কড়া নির্দেশিকা

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড়সড় ও কড়া নির্দেশিকা জারি হল (Indian Army social media policy)। ডিজিটাল যুগে তথ্যের নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল গোপনীয়তা বজায় রাখতেই এই নতুন ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
indian-army-social-media-policy-guidelines

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড়সড় ও কড়া নির্দেশিকা জারি হল (Indian Army social media policy)। ডিজিটাল যুগে তথ্যের নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল গোপনীয়তা বজায় রাখতেই এই নতুন সোশ্যাল মিডিয়া পলিসি কার্যকর করা হয়েছে বলে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে। স্মার্টফোন, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপ এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের লাগামছাড়া ব্যবহারে সেনা ও জাতীয় নিরাপত্তা যে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে তা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।

নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, Instagram-এ সেনাকর্মীরা শুধুমাত্র ভিউ করা বা মনিটরিং করতে পারবেন। কোনোভাবেই মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া বা আলোচনায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ। কারণ, কমেন্ট বা ইন্টারঅ্যাকশনের মাধ্যমেই ব্যক্তিগত তথ্য, অবস্থান বা সেনা-সংক্রান্ত ইঙ্গিত বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

   

ধর্ম ইস্যুতে হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ নিশা চট্টোপাধ্যায়ের

WhatsApp, Telegram, Signal এবং Skype এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলির ক্ষেত্রে সেনাকর্মীরা কেবলমাত্র অশ্রেণিবদ্ধ (unclassified) তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন এবং তা-ও শুধুমাত্র পরিচিত ও যাচাই করা ব্যক্তিদের সঙ্গে। অজানা গ্রুপ, ফরোয়ার্ড মেসেজ বা সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফিশিং, স্পাইওয়্যার ও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তথ্য হাতানোর ঘটনা বেড়েছে এই প্রেক্ষিতেই এই কড়াকড়ি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ এসেছে YouTube, X, Quora এবং Instagram-এর মতো পাবলিক প্ল্যাটফর্ম নিয়ে। এখানে সেনাকর্মীদের Passive Use Only অর্থাৎ দেখা বা পড়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ছবি, ভিডিও, পোস্ট, রিল, স্টোরি বা লেখা আপলোড করা যাবে না। এমনকি সেনা জীবন, প্রশিক্ষণ, পোস্টিং এলাকা বা ইউনিট-সংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট শেয়ার করাও নিষিদ্ধ। সেনা কর্তৃপক্ষের মতে, সামান্য একটি ছবি বা ভিডিও থেকেও শত্রুপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ জিওলোকেশন বা অপারেশনাল তথ্য বের করে নিতে পারে।

পেশাগত পরিচয় রক্ষার জন্য LinkedIn ব্যবহারে কিছুটা ছাড় রাখা হয়েছে। এখানে সেনাকর্মীরা কেবলমাত্র রেজ়িউমে বা প্রোফাইল আপডেট করতে পারবেন। তবে কাজের বিস্তারিত বিবরণ, বর্তমান পোস্টিং, সংবেদনশীল দায়িত্ব বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশ করা যাবে না। নেটওয়ার্কিং বা পাবলিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের মতে, এই নীতি কোনোভাবেই সেনাকর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে নয়। বরং ডিজিটাল স্পেসে বাড়তে থাকা নজরদারি, ডিপফেক, ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT)-এর যুগে সেনা ও দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই লক্ষ্য। একাধিক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনিচ্ছাকৃত পোস্ট বা মন্তব্য থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়েছে।

এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে সেনাকর্মীদের অনলাইন আচরণ আরও নিয়ন্ত্রিত ও সচেতন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নিয়ম ভাঙলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ইঙ্গিত দিয়েছে সেনা প্রশাসন। সব মিলিয়ে, ডিজিটাল নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই নতুন সোশ্যাল মিডিয়া পলিসি যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google