মামলা রাজনীতিতে নয়া বিতর্ক, শুভেন্দুর ১০১ মামলায় সবুজ সংকেত

রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা ও সমাবেশ করার ঘোষণা প্রায়শই করেন তিনি। তবে ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
Suvendu Adhikari and His 101 Cases Over the Last Four and a Half Years

রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা ও সমাবেশ করার ঘোষণা প্রায়শই করেন তিনি। তবে সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে বারবারই বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। অভিযোগ, প্রশাসনের তরফে অধিকাংশ সময়ই সভা বা কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় বিরোধী দলনেতাকে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পরেই তবে সভা করা সম্ভব হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।

সাম্প্রতিক ঘটনায় ঝাড়গ্রাম ও গঙ্গাসাগর—এই দুই জায়গায় সভা করার জন্য প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন শুভেন্দু অধিকারী। মামলার শুনানির পর আদালত থেকে সভার অনুমতি মিলেছে বলে জানা গেছে। এরপরই নির্ধারিত কর্মসূচি পালনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও রাজ্য রাজনীতিতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

   

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অধিকার তাঁর রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি করার জন্য বারবার আদালতের শরণাপন্ন হতে হওয়া গণতন্ত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক বলেই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দল হওয়ার কারণেই ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসন অনুমতি দিতে গড়িমসি করে, যার ফলে আইনি লড়াই ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকে না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সাড়ে চার বছরে এইভাবে মোট ১০১টি মামলা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সভা, মিছিল, পদযাত্রা কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে আদালতে যেতে হয়েছে তাঁকে। বিজেপির তরফে এই তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, এটি রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির উপর নিয়মিত চাপেরই প্রতিফলন।

বিজেপি নেতৃত্বের মতে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, আদালতের হস্তক্ষেপ না থাকলে বহু ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক কর্মসূচি করা সম্ভব হতো না। আদালত বারবার অনুমতি দেওয়ায় প্রমাণ হয়, এই অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অন্যদিকে, শাসকদলের তরফে এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়। কোনও কর্মসূচি নিয়ে যদি সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে অনুমতি না দেওয়াটা স্বাভাবিক বলেও দাবি তাঁদের। আদালত অনুমতি দিলে প্রশাসন সেই নির্দেশ মেনেই কাজ করে—এমনটাই বক্তব্য শাসক শিবিরের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশের একটি বড় দিক তুলে ধরছে। বিরোধী দলের কর্মসূচি ঘিরে আইনি লড়াই এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রশাসন ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্বও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

ঝাড়গ্রাম ও গঙ্গাসাগরের সভা নিয়ে আদালতের অনুমতি পাওয়ায় শুভেন্দু অধিকারী আবারও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যত বাধাই আসুক না কেন, মানুষের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও আদালতের দ্বারস্থ হতে তিনি পিছপা হবেন না।

 

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google