নাগরিকত্বের নাম ডাকাতি! বিজেপির সঙ্গ ছাড়বে ক্ষিপ্ত মতুয়ারা?

কলকাতা: নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি ছিল আশার আলো। (Matua community anger over voter list)সেই আশাকেই অস্ত্র করে মতুয়া সমাজকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিল মতুয়া ...

By Sudipta Biswas

Published:

Updated:

Follow Us
matua-community-anger-bjp-citizenship-voter-list

কলকাতা: নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি ছিল আশার আলো। (Matua community anger over voter list)সেই আশাকেই অস্ত্র করে মতুয়া সমাজকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিল মতুয়া নেতৃত্ব ও একাংশের নাগরিক সমাজ। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বহু মতুয়ার নাম বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে আসতেই বিজেপির বিরুদ্ধে উঠল ভয়ঙ্কর অভিযোগ “বিজেপি শুধু মিথ্যে বলেনি, তারা মতুয়া সমাজকে ডাকাতির মতো করে লুট করেছে।”

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নাগরিকত্বের নামে মতুয়াদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে, বছরের পর বছর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কেড়ে নেওয়া হয়েছে সম্মান, আর এখন ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তাঁদের গণতান্ত্রিক পরিচয়। এই ঘটনাকে তাঁরা শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেই দেখছেন।

   

ফের বিক্ষোভের ঝলক, রাজশাহীতে ভারতীয় দূতাবাস ঘিরে উত্তেজনা

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যে ছবি সামনে এসেছে, তা অনেকের চোখে বিজেপির দীর্ঘদিনের ‘অনুপ্রবেশ’ বয়ানের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। মতুয়া সমাজের একাংশের দাবি, এতদিন যে আতঙ্ক, ভয় এবং ‘ইনফিলট্রেশন’-এর কথা বলা হচ্ছিল, তা আসলে ছিল একপ্রকার প্রতারণা। বাস্তব সত্য আরও কুৎসিত ভোট আদায় না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার, তারপর বাদ দেওয়া।

এই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। মতুয়া সমাজের একাংশের বক্তব্য, নাগরিকত্ব নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা তাঁর উপস্থিতিতেই, তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমেই করা হয়েছিল। ফলে এই পরিস্থিতির দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তাঁর নেই। “এই সব কিছু হয়েছে তাঁর নজরদারির মধ্যেই, তাঁর কথার ভরসায়” এমনই অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষুব্ধ মতুয়ারা।

সবচেয়ে তীব্র ক্ষোভের জায়গা, নাগরিকত্ব না পেলে বা ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে এখন কি মতুয়াদেরই ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলা হবে? এই প্রশ্নই ঘুরছে সভা-সমাবেশ, সামাজিক মাধ্যম ও মতুয়া পাড়াগুলিতে। এক মতুয়া কর্মীর কথায়, “এত বছর ধরে নাগরিকত্বের স্বপ্ন দেখিয়ে ভোট নিল, আর এখন আমাদেরই অপরাধী বানানোর চেষ্টা?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক বিজেপির জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। মতুয়া সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে তাদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার জটিলতা, বিলম্ব এবং এখন ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার অভিযোগ সেই প্রত্যাশাকে ক্ষোভে পরিণত করেছে।

বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিষয়টিকে “প্রশাসনিক প্রক্রিয়া” বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিরোধীদের দাবি, এটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়। বরং পরিকল্পিতভাবে এক বিশেষ সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে পরে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা।

মতুয়া সমাজের একাংশ ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই অবমাননা তারা ভুলবে না। তাঁদের মতে, নাগরিকত্ব শুধু একটি কাগজ নয়, এটি সম্মান ও পরিচয়ের প্রশ্ন। আর সেই পরিচয় যদি রাজনৈতিক স্বার্থে মুছে ফেলা হয়, তাহলে তার জবাব গণতান্ত্রিক পথেই দেওয়া হবে। ভোটার তালিকা বিতর্ক ঘিরে এই ক্ষোভ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট “নাগরিকত্বের নামে ডাকাতি” অভিযোগ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি মতুয়া সমাজের ভেতরে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google