
দেশের বায়ু দূষণ নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বা IQAir-এর মতো সংস্থাগুলির প্রকাশিত বৈশ্বিক বায়ু মানের র্যাঙ্কিংকে “অফিসিয়াল অনুমোদনহীন” বলে অভিহিত করল কেন্দ্র সরকার। গতকাল, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় একটি প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ভারত তার নিজস্ব বায়ু মানদণ্ড নির্ধারণ করে এবং WHO-এর নির্দেশিকাগুলি কেবলমাত্র ‘উপদেশমূলক’, ভারতের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক মানদণ্ড নয়।
ভারতের নিজস্ব মানদণ্ড বনাম বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং
মন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকাগুলি দেশগুলিকে তাদের ভৌগোলিক, পরিবেশগত এবং স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিজস্ব মানদণ্ড তৈরি করতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তৈরি। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ইতিমধ্যেই জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত মান বজায় রাখার জন্য ১২টি মূল দূষণকারীর জন্য তার ন্যাশনাল অ্যাম্বিয়েন্ট এয়ার কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ডস (NAAQS) বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডের বায়ু মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা IQAir-এর মার্চ মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত ২০২৪ সালে WHO-এর কঠোর বায়ু মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। রিপোর্টটি আরও প্রকাশ করে যে, ঘন ধোঁয়ার (Smog) মাত্রার নিরিখে বিশ্বে ভারতের স্থান পঞ্চম এবং বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের মধ্যে ১৩টি শহরই ভারতে অবস্থিত।
সবচেয়ে দূষিত শহর: অসমের বাইরনিহাট এই তালিকায় শীর্ষে ছিল।
সবচেয়ে দূষিত রাজধানী: দিল্লি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানী শহর।
নিজস্ব মূল্যায়ন পদ্ধতি: ‘স্বচ্ছ বায়ু সর্বেক্ষণ’ India Air Quality Norms
বৈশ্বিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো ‘অফিসিয়াল র্যাঙ্কিং’ না থাকার কথা জানিয়ে কেন্দ্র সরকার বলেছে যে, তারা দেশের মধ্যে বায়ু মানের মূল্যায়ন করে তাদের বার্ষিক ‘স্বচ্ছ বায়ু সর্বেক্ষণ’ (Swachh Vayu Survekshan)-এর মাধ্যমে।
কীভাবে র্যাঙ্ক করা হয়? এই সর্বেক্ষণে ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম (NCAP)-এর আওতাধীন ১৩০টি শহরকে বায়ু মানের উন্নতি এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার ভিত্তিতে র্যাঙ্ক করা হয়।
গত কয়েক মাস ধরে রাজধানী দিল্লিতে বায়ু মানের সূচক (AQI) বিপজ্জনক স্তরে নেমে যাওয়ায় সেখানকার বাসিন্দারা পরিচ্ছন্ন বাতাসের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করছেন। এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট এবং দেশের নিজস্ব মানদণ্ড নিয়ে কেন্দ্রের এই বক্তব্য জাতীয় পর্যায়ে বায়ু দূষণ মোকাবিলায় দেশের নীতির উপর নতুন করে আলোকপাত করল।













