মমতার কোচবিহার সফর, রাজনৈতিক অঙ্গনে উচ্ছ্বাস জনতার

কোচবিহার জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। মঙ্গলবার সেখানে রাজনৈতিক সভা করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে সোমবারই তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করেন। প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
Mamata Banerjee Labour Code Protest

কোচবিহার জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। মঙ্গলবার সেখানে রাজনৈতিক সভা করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে সোমবারই তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করেন। প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সম্পর্কিত নানা বিষয় পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর ঠিক তার পরের দিন, মঙ্গলবারের রাজনৈতিক সভা ঘিরেই বাড়ছে প্রত্যাশা এবং কৌতূহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই তাকিয়ে কী বার্তা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী, কী নতুন দিশা দেখাতে চলেছেন তিনি।

উত্তরবঙ্গ বরাবরই রাজনীতির দিক থেকে গুরুত্বপূ্র্ণ অঞ্চল। কোচবিহারের রাজনৈতিক সমীকরণ বহুবারই বদলেছে, এবং এবার মুখ্যমন্ত্রীর ধারাবাহিক সফরকে ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই সভা শুধুমাত্র দলের শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং আগামী দিনের রাজনৈতিক রূপরেখা ঘোষণা করার ক্ষেত্রও হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবও দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

   

সোমবারের প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য পরিষেবা, রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জল প্রকল্প, কৃষকদের সুবিধা এবং শিক্ষার প্রসার—এসব ক্ষেত্রেই তিনি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন। এছাড়াও, সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পান, সে জন্য প্রশাসনের করণীয় কী, তা নিয়েও স্পষ্ট দিকনির্দেশ দেন। এই বৈঠকের পর জেলা প্রশাসনের মধ্যে নতুন কর্মউদ্দীপনা দেখা গেছে।

এবার সব নজর রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে। মঙ্গলবারের সভায় বিপুল জনসমাগমের আশা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই কোচবিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষকে সভায় যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা দাবি করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বার্তা শুধু কোচবিহারের জন্য নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

বিরোধী দলগুলিরও নজর এই সভার দিকে। বিজেপি, বাম ও কংগ্রেস—সবাই মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কী বার্তা দেবেন তার ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনে রাজনৈতিক রণকৌশল। বিশেষত উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি থাকায় তৃণমূলের এই সভা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্প নিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগতে পারেন। পাশাপাশি কেন্দ্রের প্রতি তাঁর ক্ষোভও উঠে আসতে পারে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি রাজনৈতিক সভাই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে। তাঁর সরাসরি বক্তব্য, আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভঙ্গিমা এবং আবেগঘন বার্তা মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। কোচবিহারের মঞ্চ থেকে তিনি কোন স্বরে কথা বলেন, সেটাই এখন দেখার।

 

 

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google