এসআইআর-আতঙ্কে একই বুথে ঘরছাড়া ১৫১! বিস্ফোরক দাবি তৃণমূল কাউন্সিলরের

এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা বিতর্কের মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল উত্তর বারাকপুর পুরসভায়। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রীপর্ণা রায় ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করেন তাঁর ...

By Sandipa Sil

Published:

Updated:

Follow Us
Sreeparna Roy

এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা বিতর্কের মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল উত্তর বারাকপুর পুরসভায়। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রীপর্ণা রায় ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করেন তাঁর ওয়ার্ডের একটি বুথ থেকে ১৫১ জন হিন্দিভাষী বাসিন্দা নাকি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন কিংবা বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। পোস্টে তিনি তাদেরকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে “রোহিঙ্গা ফর্ম” শব্দবন্ধ ব্যবহার করে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দানা বাঁধছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

উত্তর বারাকপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডটি ইছাপুরের গোয়ালাপাড়া, প্রভাসপল্লি ও নেতাজিপল্লি এলাকা নিয়ে গঠিত। গুরুদ্বার-সংলগ্ন অঞ্চলে বহু অবাঙালি হিন্দিভাষী পরিবার বহু বছর ধরে বাস করছেন— যারা শ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী কিংবা কারখানার কর্মী হিসেবে স্থানীয়ভাবে যুক্ত। কাউন্সিলরের দাবি, ওইসব পরিবারের অনেকে বর্তমানে ওয়ার্ডে নেই— বিহার, ঝাড়খণ্ড বা উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পিতৃভিটেতে গিয়ে রয়েছেন এবং এসআইআর-সংক্রান্ত আশঙ্কার কারণে ফিরতে চাইছেন না।

   

12GB RAM সহ সেরা ৩টি স্মার্টফোন, অবিশ্বাস্য দামে কিনুন

শ্রীপর্ণা রায় তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন “আমাদের ওয়ার্ডের ৯৯ শতাংশ হিন্দিভাষী। একটা বুথে ১৫১ জন হিন্দু বাসিন্দা ফর্ম না নিয়ে বেপাত্তা। কেউ কেউ ফর্ম নিয়েছে, কিন্তু ভয়ে জমা দিচ্ছে না যদি ‘দেশে’ নাম কেটে যায়!” এর পাশাপাশি তিনি সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি “মিডিয়া বর্ডারে ৫০ জন মুসলিম দেখিয়ে শত শত রোহিঙ্গা পালাচ্ছে বলছে! অথচ আমার ওয়ার্ডের এক বুথেই ১৫১ জন হিন্দিভাষী ‘ফর্ম’ নিতে ভয় পাচ্ছে।”

পোস্টের নিচে এক মন্তব্যে তিনি আরও লিখেছেন “‘দেশে’ জমি-সম্পত্তি আগে বাঁচুক। ভয়েই অনেকে ফর্ম জমা দিচ্ছে না।” আরেকটি মন্তব্যে তিনি রাজনৈতিক নিশানাও টানেন “এরা গত ২০১৪ থেকে বিজেপির সরি, মোদীর ভোটার।” শ্রীপর্ণার এই মন্তব্য ঘিরে শাসক এবং বিরোধী উভয় শিবিরেই তর্ক-বিতর্ক তুঙ্গে।

স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে যাঁদের নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তাঁদের কেউই অনুপ্রবেশকারী নন। বরং অভিযোগ উঠেছে, বহু হিন্দিভাষী শ্রমিক বিহার-ঝাড়খণ্ডে তাদের গ্রামের ভোটার তালিকায় নাম রেখেছেন এবং একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। ফলে দুটি রাজ্যে নাম থাকা নিয়ে জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এই ভেবেই নাকি বহু মানুষ আতঙ্কে ফর্ম নেননি অথবা নিজের নামে নথি জমা দিতে চাইছেন না।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি “এখানকার মানুষ বহু বছর ধরে কারখানায় বা ব্যবসায় যুক্ত। কিন্তু পিতৃভিটের ভোটার তালিকা থেকে নাম তুলতে চাননি বলে তাঁদের নাম দু’টি রাজ্যেই রয়ে গেছে। এখন এসআইআর নিয়ে আলোচনা বাড়ায় অনেকেই ভাবছেন বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।”

এসআইআর নিয়ে এখনও সরকারি কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ হয়নি। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে নাগরিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, ভোটার তালিকা হালনাগাদ বা পরিচয় যাচাই রুটিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, গুজবে কান না দিতে সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে। পুলিশও জানিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজেপির অভিযোগ শাসকদলের কাউন্সিলর মিথ্যা দাবি করে অনাবশ্যক আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন এবং ভোটের আগে রাজনীতিক সুবিধা নিতে চাইছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা পাল্টা বলছেন সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কথাই তুলে ধরেছেন শ্রীপর্ণা, এবং প্রশাসনের উচিত দ্রুত সচেতনতা বাড়ানো।

এসআইআর নিয়ে এখনও জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এই পরিস্থিতিতে শ্রীপর্ণা রায়ের দাবি একটি বুথে ১৫১ জন বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে রয়েছেন সত্যতা কতটা, তা তদন্ত সাপেক্ষ। তবে তাঁর পোস্ট রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়িয়েছে, তা বলাই যায়।

এ সম্পর্কে কাউন্সিলর শ্রীপর্ণা রায় বলেছেন, আমাদের ওয়ার্ডের একটা বুথে এখনও পর্যন্ত ১৫১ জন ভোটারের খোঁজ পাওয়া যায়নি, যাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ হিন্দু অবাঙালী। এবং আজকে পর্যন্ত ২০০ মানুষ ফর্ম জমা করেনি। এবং এরাও সব হিন্দু অবাঙালি। এদের ওরিজিন বিহার কিংবা উত্তর প্রদেশ।

তাঁর প্রশ্ন, এই ১৫১ জন ভোটার কোথায় গেলো?? দুই রাজ্যে ভোট দেওয়া কী আইন সিদ্ধ ?? এরা দুই রাজ্যের ভোটার কার্ড দেখিয়ে দুই রাজ্য সরকারের পরিষেবা যদি নিয়ে থাকেন সেটা ঠিক??

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google