ভারতে জংলী হাতির সংখ্যায় মাথায় হাত সরকারের

নয়াদিল্লি: ভারতের বন্য হাতির সংখ্যা নিয়ে সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমবারের মতো ডিএনএ-ভিত্তিক এই জরিপ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
india-wild-elephant-population-decline-2025-survey

নয়াদিল্লি: ভারতের বন্য হাতির সংখ্যা নিয়ে সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমবারের মতো ডিএনএ-ভিত্তিক এই জরিপ অনুসারে, ভারতে বন্য হাতির সংখ্যা এখন ২২,৪৪৬-এ নেমে এসেছে, যা ২০১৭ সালের সমীক্ষার তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ভারতে জংলী হাতির সংখ্যায় মাথায় হাত সরকারের

   

সেই সময়ের অনুমান ছিল ২৭,৩১২। এই সংখ্যা শুনে অনেকের মনে উদ্বেগ জাগছে, কারণ এই বিশালকায় প্রাণীরা শুধু আমাদের জঙ্গলের সৌন্দর্যই নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারীও। কিন্তু এই খবরের মধ্যে একটা ইতিবাচক দিকও আছে কর্ণাটক রাজ্য এখন ভারতের সবচেয়ে বেশি বন্য হাতির আবাসস্থল হয়ে উঠেছে, যার অনুমানী সংখ্যা ৬,০১৩।

এটি দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ।এই জরিপটি পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (এমওইএফসিসি), প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট এবং উইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (ডব্লিউডব্লিআই) যৌথভাবে পরিচালিত ‘অল-ইন্ডিয়া সিঙ্ক্রোনাইজড এলিফ্যান্ট এস্টিমেশন’ (এসএআইইই) ২০২৫-এর অংশ। এটি ২০২১ সাল থেকে শুরু হয়ে চার বছর পর মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে।

সমীক্ষার পদ্ধতিটা ছিল অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক—তিনটি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে পায়ে হেঁটে সমীক্ষাকারীরা এম-স্ট্রাইপস অ্যাপ ব্যবহার করে হাতির উপস্থিতির চিহ্ন সংগ্রহ করেছেন, যেমন পায়ের ছাপ, খাদ্যের অবশেষ বা গাছের ক্ষতি। দ্বিতীয় ধাপে স্যাটেলাইট ডেটা দিয়ে আবাসস্থলের মান এবং মানুষের হস্তক্ষেপ মূল্যায়ন করা হয়েছে।

তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে উদ্ভাবনী ছিল ডিএনএ বিশ্লেষণ—১২,০০০-এর বেশি হাতির মলের নমুনা থেকে ৪,০৬৫টি অনন্য হাতির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্ক-রিক্যাপচার মডেল ব্যবহার করে মোট জনসংখ্যা অনুমান করা হয়েছে, যার পরিসর ১৮,২৫৫ থেকে ২৬,৬৪৫। এই পদ্ধতি ভবিষ্যতের সমীক্ষার জন্য একটা নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।কর্ণাটকের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা একটা মাইলফলক।

রাজ্যের বান্দিপুর টাইগার রিজার্ভ, নাগারহোল, বিলিগিরি রঙ্গা টেম্পল টাইগার রিজার্ভ এবং মালাই মহাদেশ্বর হিলস উইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি—এই অঞ্চলগুলোতে হাতির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। বাবাবুদানগিরি-মহিষূর-নীলগিরি-ব্যানারঘাট্টা ল্যান্ডস্কেপ, যা ২০,০০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত, এশিয়ার সবচেয়ে বড় হাতির আবাসস্থল।

২০২৩ সালের একটি আঞ্চলিক জরিপে কর্ণাটকের সংখ্যা ছিল ৬,৩৯৫, যা এবার একটু কমলেও দেশের শীর্ষে রয়েছে। অসম (৪,১৫৯), তামিলনাড়ু (৩,১৩৬), কেরল (২,৭৮৫) এবং উত্তরাখণ্ড (১,৭৯২) এর পরেই কর্ণাটক। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে মিলিয়ে ৬,৫৫৯ হাতি রয়েছে, যা দ্বিতীয় স্থান। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এই হ্রাসের পিছনে মূল কারণগুলো চিন্তার।

আবাসস্থলের ক্ষয়—জঙ্গল কেটে শিল্পায়ন, খনি, রাস্তা এবং রেলপথ নির্মাণ হাতিদের জীবনকে বিপন্ন করছে। মানুষ-হাতির সংঘর্ষও বেড়েছে; গত কয়েক বছরে শত শত মানুষ এবং কয়েক ডজন হাতি এর শিকার হয়েছে। ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং ঝাড়খণ্ডের মতো কেন্দ্রীয় ভারতে ৪১ শতাংশ হ্রাস হয়েছে, যা আরও উদ্বেগজনক।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google