হাসপাতালে গুলি কাণ্ডে সরব তেজস্বী, লালু জমানা মনে করিয়ে সরব বিরোধীরা

বিহারের রাজধানী পাটনায় প্রকাশ্য দিবালোকে একটি হাসপাতালে ঢুকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Tejashwi)। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতা তথা প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব। ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
Tejashwi alleges nitish government

বিহারের রাজধানী পাটনায় প্রকাশ্য দিবালোকে একটি হাসপাতালে ঢুকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Tejashwi)। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতা তথা প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব। তিনি বিহার সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, “বিহারে কি কেউ কোথাও নিরাপদ?”

এই ঘটনায় তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যের জবাবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ সরব হয়ে লালু প্রসাদ যাদবের শাসনকালের দুর্নীতি ও অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে তেজস্বীকে কটাক্ষ করেছে। তাদের মতে, লালু শাসনের সময়ে বিহারে তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি, খুন, অপহরণের মতো অপরাধ চরমে পৌঁছেছিল। তেজস্বীর মুখে এখন নিরাপত্তার প্রশ্ন মানায় না বলে তাঁরা মন্তব্য করেছেন।

   

পাটনার হাসপাতালে গুলি কাণ্ড

বৃহস্পতিবার সকালে পাটনার পারস হাসপাতালে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। প্যারোলে মুক্তি পাওয়া এক আসামি, চন্দন মিশ্র, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি বক্সার জেলার বাসিন্দা এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক খুনের মামলা রয়েছে। পাটনার এসএসপি কার্তিকেয় শর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, অজ্ঞাতপরিচয় কিছু দুষ্কৃতী হাসপাতালের আইসিইউতে ঢুকে চন্দন মিশ্রর উপর গুলি চালায়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই হামলার পিছনে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের হাত রয়েছে। আহত চন্দন মিশ্রা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।পাটনার সেন্ট্রাল রেঞ্জের আইজি জিতেন্দ্র রানা জানিয়েছেন, “চন্দন মিশ্রাকে একাধিকবার গুলি করা হয়েছে। বক্সার পুলিশের সহায়তায় হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তারক্ষীদের জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই দিকটিও তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সিনহা এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, “ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে।

অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বলেছেন, অপরাধীদের ধরে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।” জেডি(ইউ) নেতা নীরজ কুমারও জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তেজস্বী যাদবের প্রতিবাদএই ঘটনার পর তেজস্বী যাদব একটি এক্স পোস্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সরকারি অপরাধীরা হাসপাতালের আইসিইউতে ঢুকে রোগীর উপর গুলি চালিয়েছে। বিহারে কি কেউ কোথাও নিরাপদ? ২০০৫ সালের আগে কি এমন ঘটনা ঘটেছে?” তিনি বর্তমান এনডিএ সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিরোধীদের সমালোচনা

তেজস্বীর এই মন্তব্যের জবাবে বিজেপি ও জেডি(ইউ)-এর নেতারা লালু প্রসাদ যাদবের শাসনকালের (১৯৯০-২০০৫) দুর্নীতি ও অপরাধের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁরা বলছেন, লালু শাসনের সময় বিহারে ‘জঙ্গলরাজ’ ছিল।

তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি, খুন, অপহরণের মতো অপরাধ তখন নিত্যদিনের ঘটনা ছিল। এক বিজেপি নেতা বলেন, “তেজস্বী যখন নিরাপত্তার কথা বলছেন, তখন তাঁর বাবার শাসনকালের কথা মনে করা উচিত। সেই সময়ে বিহারে মানুষের জীবন ছিল ত্রাসের। আজ তিনি যে প্রশ্ন তুলছেন, তা তাঁর নিজেদের দলের ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করে।”

অপর একটি হত্যাকাণ্ড

এই ঘটনার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকালে বিহারে আরেকটি হত্যাকাণ্ডে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পাটনার শাহপুর থানার অধীন হাথিয়াকান্ধ গ্রামে রাকেশ সিং-এর ২০ বছর বয়সী ছেলে শিবম ওরফে বান্টির রক্তাক্ত দেহ বাড়ির বাইরে পাওয়া গেছে। পশ্চিম পাটনার এসপি ভানু প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, শিবমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শিবমের পরিবার জানিয়েছে, তিনি দানাপুরে ভাড়া বাড়িতে পড়াশোনা করতেন এবং মাত্র চার দিন আগে গ্রামে এসেছিলেন। তাঁর দাদু দেবেন্দ্র সিং জানান, রবিবার রাতে শিবম তাঁদের ঘরে ঘুমোতে এসেছিলেন, কিন্তু মোবাইল চার্জে দিতে গিয়ে অন্য ঘরে যান। সকালে তাঁর দেহ বাড়ির বাইরে পাওয়া যায়। এই ঘটনায় গ্রামে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই দুটি ঘটনা বিহারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে, চলতি বছরের শেষে বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের অপরাধের ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধের জন্ম দিয়েছে।

তেজস্বী যাদব বর্তমান নীতীশ কুমার সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করলেও, বিজেপি ও জেডি(ইউ) নেতারা লালু শাসনের ‘জঙ্গলরাজ’ মনে করিয়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণ করছেন। বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরী দাবি করেছেন, “রাজ্যে কোনও সংগঠিত অপরাধ নেই। সুশাসন বজায় রয়েছে।” তবে, পরপর এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

পাটনার পারস হাসপাতালে গুলিবর্ষণ এবং শিবম বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। তেজস্বী যাদবের প্রতিবাদ এবং বিরোধীদের পাল্টা সমালোচনায় রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে।

TVS Apache RTR 310 আকর্ষণীয় কালার অপশনে লঞ্চ হল, ফিচারে পেয়েছে বিরাট আপডেট

লালু শাসনের অতীতের দুর্নীতি ও অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি ও জেডি(ইউ) তেজস্বীকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। তবে, এই ঘটনাগুলি বিহারের জনগণের মনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আগামী নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ইস্যু রাজনৈতিক দলগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google