বাংলা ফুটবল জগতের অন্যতম দুই প্রধান ক্লাব, ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) ও মোহনবাগান (Mohun Bagan SG), প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সম্মানিত করে আসছে। মাঠের মধ্যে যেমন চলে তীব্র প্রতিযোগিতা, তেমনি মাঠের বাইরে আসে সৌজন্য ও শ্রদ্ধার বার্তা। এই ঘটনা প্রমাণ করে ফুটবল শুধু শারীরিক শক্তির খেলা নয়, সুসম্পর্ক এবং মানসিকতারও প্রতীক। মাঠে চলা যুদ্ধ যেমন দুই দলের ভক্তদের হৃদয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, তেমনি মাঠের বাইরে সেই সম্পর্কের সৌজন্য বার্তা পুরনো দিনের রীতি অনুযায়ী চিরকালই ফুটবলের এক অংশ হয়ে থাকে।
ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ২০২৪-২৫ মরসুমে (ISL 2024-25 Session) শিল্ড জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার লিগ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন (ISL Shiled Champion) হয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan SG)। সোমবার মোহনবাগানকে শুভেচ্ছা (Congratulation) জানাতে বাগান তাঁবুতে উপস্থিত হয়েছিলেন লাল-হলুদের কর্মকর্তারা (East Bengal FC)। পুষ্পস্তবক ও মিষ্টির (Flowers and Sweets) হাঁড়ি তুলে দেওয়া হয় পড়শি ক্লাবের হাতে। ই সৌজন্য এবং শোভন আচরণ ফুটবল জগতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ক্লাবগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের মাধুর্য প্রকাশ করে।
East Bengal Club officials came to Mohun Bagan Club with sweets and flowers to congratulate the biggest club of India 🏆🇮🇳 pic.twitter.com/JgItlmHkrP
— Mohun Bagan Hub (@MohunBaganHub) February 24, 2025
এই ঘটনার মাধ্যমে মাঠের বাইরের ফুটবলের চিত্রটিও সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ফুটবল খেলার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে কখনও কখনও ক্লাবগুলো একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখতে পায়। তবে এই ঘটনাটি ফুটবলের এক বিশেষ দিককে সামনে আনে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও, ক্লাবগুলোর মধ্যে সৌজন্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে। বিশেষত, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি মানে ঐতিহ্যের লড়াই, তবে এর বাইরেও এই ক্লাবগুলো একে অপরকে সম্মান জানাতে পিছপা হয় না।
এছাড়া, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইতিহাসও এই ধরনের সৌজন্যের নজির সমৃদ্ধ। গত বছর, আইএসএল কাপ জয়ী মুম্বই সিটি ক্লাবকেও মধ্যরাতে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল তারা। এই ধরনের মনোভাব এবং আচরণ ফুটবল জগতে নতুন এক দৃষ্টিকোণ তৈরি করে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্মান একসাথে থাকতে পারে।
অবশ্য, কিছু সমর্থক এই সৌজন্য দেখে মনে করেছেন যে, যদি দলগঠন নিয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আরও তৎপরতা দেখাত, তাহলে তারা হয়ত আরও ভালো ফলাফল পেতে পারত। বর্তমান সময়ে, যেখানে ইস্টবেঙ্গল প্লে অফে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে, সেখানে এই ধরনের সৌজন্য বার্তা কিছুটা মিষ্টির মতো মনে হলেও, ক্লাবের ভবিষ্যতের জন্য অনেক বেশি কার্যকরী পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মোহনবাগান যে অদম্য মনোভাব দেখিয়ে শিরোপা জিতেছে, তা তাদের সমর্থকদের কাছে উৎসবের মতো। এভাবেই, ফুটবল মাঠে এবং মাঠের বাইরে সম্পর্কের সৌজন্য বার্তা অব্যাহত থাকবে এবং এই সম্পর্কের উন্নয়নই দুদুই ক্লাবের মধ্যে ঐতিহ্য এবং সম্পর্কের মাধুর্য বজায় রাখবে।