নয়াদিল্লি: বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের কড়া প্রস্তুতি।(2000 CAPF) রাজ্যে নজিরবিহীনভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হতে চলেছে। সূত্রের খবর, ন্যূনতম ২০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) রাজ্যে আসবে। এটা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোতায়েন। নির্বাচন দু’দফায় হওয়ায় এবং হিংসার অতীত রেকর্ড বিবেচনা করে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।নির্বাচন কমিশন ১৫ মার্চ সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে।
বাংলায় প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২টি আসনে ভোট হবে। গণনা ৪ মে। এর আগে ২০২১-এ আট দফায় ভোট হয়েছিল। এবার দু’দফায় করার পিছনে কমিশনের যুক্তি প্রশাসনিক সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং হিংসা বন্ধ করা। দু’দফার মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধান থাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দ্রুত স্থানান্তর করে ব্যবহার করা যাবে।কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েনের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
আরও দেখুনঃ রেলে ২৮০০ টিরও বেশি পদে নিয়োগ, ১১ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন করুন
ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে দুই ধাপে ৪৮০ কোম্পানি এসেছে প্রথমে ২৪০ এবং পরে আরও ২৪০। এগুলো এলাকা দখল, আস্থা তৈরি এবং ইভিএম সুরক্ষার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর কমিশন আরও বড় সংখ্যায় বাহিনী আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র বলছে, মোট ১৬০০-২০০০ কোম্পানি (প্রায় ১.৫-১.৮ লক্ষ জওয়ান) মোতায়েন হবে। এর মধ্যে সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি, সিআইএসএফ, এসএসবি-সহ বিভিন্ন বাহিনী থাকবে।
অসমের ভোট শেষ হলে সেখানকার বাহিনীও বাংলায় আসবে।এই বিশাল মোতায়েনের পিছনে কারণ রাজ্যের অতীত নির্বাচনী কেন্দ্র করে হিংসা । ২০২১-এর পোস্ট-পোল ভায়োলেন্স, ২০১৬, ২০২৪-এর লোকসভা, পঞ্চায়েত নির্বাচন সবকিছু খতিয়ে দেখে কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় ১০০% ওয়েবকাস্টিং, মাইক্রো অবজারভার, পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা।
উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এসব জেলায় সবচেয়ে বেশি বাহিনী যাবে।রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তৃণমূল নেতারা বলছেন, এটা রাজ্য সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ। সৌগত রায়, সাগরিকা ঘোষের মতো নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, কমিশন ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। অন্যদিকে, বিজেপি এবং বিরোধীরা স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, এতে সাধারণ ভোটার নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে।




















