
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফের তীব্র বিতর্কের জন্ম দিলেন (Sirajul Haq Kashmir statement)জামাত-ই-ইসলামির প্রাক্তন প্রধান নেতা সিরাজুল হক। আফগানিস্তানকে লক্ষ্য করে যুদ্ধের হুমকি দেওয়া থেকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “আপনি যদি সত্যিই এত সাহসী ও শক্তিশালী হন, তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হুমকি না দিয়ে কাশ্মীরকে ‘মুক্ত’ করতে যান।” সিরাজুল হকের এই মন্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
সম্প্রতি আফগানিস্তান ইস্যুতে পাকিস্তানের শাসক মহলের একাংশের কড়া অবস্থানের প্রেক্ষিতেই এই বক্তব্য সামনে এসেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ এবং তালিবান সরকারের ভূমিকা নিয়ে ইসলামাবাদের সঙ্গে কাবুলের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের।
হাইড্রোজেন ট্রেন চালক হতে গেলে কোন কোর্সটি করতে হবে, কত বেতন পাবেন?
সেই আবহে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর যুদ্ধংদেহী বক্তব্যের সমালোচনা করে সিরাজুল হক বলেন, আফগানিস্তানকে শত্রু বানিয়ে কোনও সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার দিকে নজর না দিয়ে বিদেশনীতি নিয়ে অযথা আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।
সিরাজুল হকের বক্তব্যে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উঠে আসায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাজনীতিকরা বারবার কাশ্মীর ইস্যুতে বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। তাঁর কটাক্ষ, “আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দেওয়া যত সহজ, কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে কার্যকর কূটনীতি ততটাই অনুপস্থিত।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যকে রাজনৈতিক ভণ্ডামি বলেই তুলে ধরতে চেয়েছেন।
এই ইস্যুতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে। একদিকে শাসক জোটের কিছু নেতা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের পক্ষে সওয়াল করছেন, অন্যদিকে বিরোধী ও ধর্মভিত্তিক দলগুলির একাংশ মনে করছে, এতে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানকে ঘিরে পাকিস্তানের নীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব রয়েছে—কখনও কূটনৈতিক সহযোগিতা, কখনও আবার নিরাপত্তা ইস্যুতে সংঘাত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিরাজুল হকের এই বক্তব্য মূলত দুই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এটি শাসকদলের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার প্রতিফলন। দ্বিতীয়ত, কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি পাকিস্তানের চিরাচরিত রাজনৈতিক বয়ানকে উসকে দিয়েছেন, যা ঘরোয়া রাজনীতিতে আবেগ জাগাতে ব্যবহৃত হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
এদিকে, আফগানিস্তান ইস্যুতে পাকিস্তানের রাজনীতিকদের মধ্যে বিভাজন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, তালিবান সরকারের সঙ্গে সংঘাতের পথে গেলে সীমান্তে অশান্তি বাড়বে এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সমস্যা তৈরি হবে। আবার অন্য শিবিরের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কড়া অবস্থান জরুরি। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সিরাজুল হকের মন্তব্য নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলেছে।
সব মিলিয়ে, আফগানিস্তান ও কাশ্মীর—দুটি সংবেদনশীল ইস্যু একসঙ্গে টেনে এনে জামাত-ই-ইসলামির প্রাক্তন নেতার বক্তব্য পাকিস্তানের রাজনীতিতে চাপ বাড়িয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত কটাক্ষ নয়, বরং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।










