সৌদি এবং আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা চরমে

সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (Saudi)মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি বিমান হামলা আমিরাত-সমর্থিত বাহিনীকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া…

saudi-uae-tensions-yemen-hadramout-airstrike

সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (Saudi)মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি বিমান হামলা আমিরাত-সমর্থিত বাহিনীকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আল-কাতন এলাকার কাছে এই হামলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা রিয়াদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঘটেছে।

Advertisements

সৌদি আরব আমিরাতকে তাদের প্রক্সি বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু তা না মানায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনা সৌদি-আমিরাত জোটের অন্দরে বিপজ্জনক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে ইয়েমেন যুদ্ধ এবং গাল্ফ অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে গভীর প্রভাব পড়তে পারে।ডিসেম্বর ২০২৫-এর শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের মূলে রয়েছে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)।

   

মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে হবে! নির্দেশ BCCI র

আমিরাত-সমর্থিত এসটিসি হাদরামাউত এবং আল-মাহরা প্রদেশে ব্যাপক অগ্রগতি করে, সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর মধ্যে রয়েছে সিয়ুন শহর, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি এবং তেল সমৃদ্ধ এলাকা। সৌদি আরব এই অগ্রগতিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে, কারণ হাদরামাউত সৌদি সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়া এবং অনেক সৌদি নাগরিকের পৈতৃক ভূমি এই অঞ্চল।

রিয়াদ এসটিসিকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়, এমনকি হামলার হুমকিও দেয়। কিন্তু এসটিসি তা অগ্রাহ্য করে।৩০ ডিসেম্বর মুকাল্লা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের বিমান হামলা চালানো হয়। সৌদি দাবি করে, আমিরাত থেকে আসা দুটি জাহাজে অস্ত্রশস্ত্র এবং সাঁজোয়া যানবাহন ছিল, যা এসটিসির জন্য। এই হামলায় জাহাজের কার্গো ধ্বংস হয়।

আমিরাত এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, শিপমেন্টে কোনও অস্ত্র ছিল না। এরপর ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল আমিরাতি বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার আলটিমেটাম দেয়। সৌদি আরব এই আলটিমেটামকে সমর্থন করে এবং আমিরাতের কর্মকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে সমালোচনা করে। আমিরাত শেষ পর্যন্ত তাদের অবশিষ্ট বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

জানুয়ারি ২০২৬-এ উত্তেজনা আরও বাড়ে। ২ জানুয়ারি সৌদি বিমান হামলা এসটিসি-নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পে চালানো হয়, যেখানে আল-খাশা এলাকায় সাতটি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়। এসটিসি এই হামলার জন্য সৌদিকে দায়ী করে এবং ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করে।

‘অন্যদিকে, সৌদি-সমর্থিত ন্যাশনাল শিল্ড ফোর্সেস ‘শান্তিপূর্ণ’ অভিযান চালিয়ে হাদরামাউতের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি দখল করে। এসটিসি স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হয়ে দুই বছরের মধ্যে গণভোটের ঘোষণা দেয় এবং নতুন সংবিধান প্রকাশ করে। সৌদি আরব রিয়াদে দক্ষিণ ইয়েমেনের সব পক্ষকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানায়।

Advertisements