সমুদ্রের তলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল মার্কিন উপকূল

ফের ভয় ধরাল প্রকৃতির রুদ্ররূপ। প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে তীব্র ভূমিকম্পে (Oregon Coast Earthquake) কেঁপে উঠল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন উপকূলবর্তী এলাকা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ‘ইউনাইটেড স্টেটস…

earthquake

ফের ভয় ধরাল প্রকৃতির রুদ্ররূপ। প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে তীব্র ভূমিকম্পে (Oregon Coast Earthquake) কেঁপে উঠল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন উপকূলবর্তী এলাকা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ‘ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে’ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে স্থানীয় সময় অনুযায়ী ৬.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয় ওরেগন অঙ্গরাজ্যের উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মহাসাগরের তলদেশে।

Advertisements

এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ফলে ভূত্বকের একেবারে কাছাকাছি অঞ্চলে কম্পনের উৎপত্তি হওয়ায় উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বেশ ভালোভাবেই কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। একইসঙ্গে এই ভূমিকম্পের তথ্য নিশ্চিত করেছে জার্মানির ‘German Research Centre for Geosciences’ (GFZ) সংস্থাও।

   

ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের এমন এক অঞ্চলে, যা দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলটি হলো বিশ্বখ্যাত ক্যাসকাডিয়া সাবডাকশন জোন। এখানে উত্তর আমেরিকান প্লেট এবং জুয়ান ডি ফুকা টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ চলে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকম্পের আশঙ্কা লেগেই রয়েছে।

এই সাবডাকশন জোন ঘিরে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ নতুন নয়। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭০০ সালে এই অঞ্চলেই ৯.০ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে সুনামি সৃষ্টি হয়ে তা জাপানের উপকূল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। জাপানের প্রাচীন নথিপত্রেও সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের উল্লেখ রয়েছে।

তাই নতুন করে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প ফের উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিজ্ঞানীমহলে। যদিও আপাতত স্বস্তির খবর, এই কম্পনের জেরে কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল গভীরে হলেও সুনামি তৈরির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ওরেগনের উপকূলবর্তী একাধিক শহরে কম্পন অনুভূত হলেও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ পরিষেবা, ইন্টারনেট বা যোগাযোগ ব্যবস্থায় তেমন কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। তবে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সাল জুড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। নতুন বছরের শুরুতেই ফের এমন ভূকম্পন হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে— তবে কি ২০২৬ সালও ভূমিকম্পে ভরা বছর হতে চলেছে?

ভূতত্ত্ববিদদের একাংশ মনে করছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় “রিং অফ ফায়ার” অঞ্চলটি বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এই অঞ্চলটির মধ্যেই রয়েছে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড এবং আমেরিকার পশ্চিম উপকূল। ফলে আগামী দিনে আরও বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ভূমিকম্প পূর্বাভাস দেওয়ার মতো কোনও প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়নি। তাই একমাত্র উপায় হলো আগাম সতর্কতা, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং ভূমিকম্প সহনশীল পরিকাঠামো গড়ে তোলা।

ওরেগন ও ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ইতিমধ্যেই নিয়মিতভাবে ভূমিকম্প ও সুনামি মোকাবিলার মহড়া চালানো হচ্ছে। উপকূলবর্তী শহরগুলিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত করে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

Advertisements