পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু উড়িয়ে দিল অজ্ঞাত জঙ্গিরা

pakistan-bridge-blast-khyber-pakhtunkhwa-

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের (Pakistan)উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সেতু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় জঙ্গিরা। কুররাম নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল। বিস্ফোরক দিয়ে সেতুটি উড়িয়ে দেওয়ার ফলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Advertisements

স্থানীয় সূত্রের খবর, গতকাল রাতের দিকে এই ঘটনা ঘটে। জঙ্গিরা রিমোট কন্ট্রোলড আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ব্যবহার করে সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।উত্তর ওয়াজিরিস্তানের এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অশান্ত। আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) সহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে।

   

চলে গেলেন রবীন্দ্রসংগীতের প্রবাদপ্রতিম অর্ঘ সেন

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এখনও এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে সেতুটি এখন সম্পূর্ণ অকেজো। সেতু ধ্বংসের ফলে কুররাম নদী পারাপারের জন্য স্থানীয়রা এখন অনেক দূরের পথ ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।এই সেতু শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচলের জন্যই নয়, বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও আশপাশের এলাকা থেকে পণ্য পরিবহন, কৃষিজাত দ্রব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সবকিছুই এই সেতুর উপর নির্ভরশীল ছিল। সেতু ভেঙে পড়ার পর ট্রাক, জিপ ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এতে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়তে শুরু করেছে। অনেক পরিবারের জন্য খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীরা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা তো শান্তিতে বাঁচতে চাই। এই সেতু ছিল আমাদের জীবনের একটা অংশ। এখন নদী পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগবে, শীতের এই সময়ে কীভাবে চলবে?” অনেকে অভিযোগ করছেন যে সরকার এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক নয়। গত কয়েক মাসে এই অঞ্চলে একাধিক হামলা, বিস্ফোরণ ও সেনা অভিযানের ঘটনা ঘটেছে।

জানুয়ারির শুরুতেই উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও কুররামে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে। কিন্তু এরপরও এমন হামলা অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি।

তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিকল্প রাস্তা মেরামতের চেষ্টা চলছে। সেনাবাহিনী এলাকায় টহল বাড়িয়েছে এবং জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের হামলা জঙ্গিদের কৌশলের অংশ সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যাহত করা এবং স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements