কড়া নিরাপত্তায় ঢেকে নিউ ইয়র্কের আদালতে আনা হল মাদুরোকে

nicolas-maduro-produced-new-york-federal-court

ওয়াশিংটন: নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটান ফেডারেল কোর্টে আজ কড়া নিরাপত্তার চাদরে (Nicolas Maduro)ঢেকে আনা হয়েছে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। হেলিকপ্টারে করে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টার থেকে কোর্টে নিয়ে আসা হয় তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে। হাতকড়া পরা অবস্থায়, বেইজ রঙের জামা গায়ে, মাদুরোকে দেখা গিয়েছে সশস্ত্র অফিসারদের ঘিরে।

এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে নার্কো-টেররিজম, কোকেন আমদানি ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার অভিযোগ। আজকের এই প্রাথমিক শুনানি (arraignment) তাঁর মামলার আনুষ্ঠানিক সূচনা।ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ জানুয়ারি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইউএস স্পেশাল ফোর্সেস কারাকাসে অভিযান চালায়। হেলিকপ্টারে করে মাদুরোর দুর্গে হামলা, তাঁকে এবং স্ত্রীকে গ্রেফতার করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়।

   

সঞ্জুর বিকল্প হিসেবে রাজস্থানে অধিনায়কের দৌড়ে এই ১৪ কোটির অভিজ্ঞ ক্রিকেটার

তারপর নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। এই অভিযানে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি ভেনেজুয়েলার। কিউবান নাগরিকদের মৃত্যুতে হাভানা দু’দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘ব্রিলিয়ান্ট অপারেশন’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আসবে।নিউ ইয়র্কের কোর্ট চত্বরে আজ সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তা।

ব্যারিকেড, স্নাইপার, হেলিকপ্টার টহল সব মিলিয়ে যেন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। সাংবাদিকদের লম্বা লাইন, প্রতিবাদকারী এবং সমর্থকদের ভিড়। মাদুরোর সমর্থকরা ‘কিডন্যাপিং’ বলে চিৎকার করছেন, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলীয় প্রবাসীরা উল্লাস করছেন। কোর্টে মাদুরোর আইনজীবীরা সম্ভবত নট গিল্টি প্লি করবেন এবং জামিনের আর্জি জানাবেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামিন মেলা কঠিন।

মামলায় সাজা হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।এদিকে, আজ রাত ৮:৩০টা আইএসটি (ভারতীয় সময়) অর্থাৎ নিউ ইয়র্কে সকাল ১০টায় রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে। রাশিয়া এবং চিনের সমর্থনে এই বৈঠক। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন অভিযানকে ‘আগ্রাসন’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে নিন্দা করেছেন।

রাষ্ট্রসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এটি ‘বিপজ্জনক নজির’ সৃষ্টি করেছে। রাশিয়া-চিনের মতো দেশগুলো মার্কিন অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। কিউবা, কলম্বিয়া, ইরানও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা, এল সালভাদরের মতো ট্রাম্প-মিত্র দেশগুলো এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন