৭টি দেশে সম্পূর্ণ ট্রাভেল ব্যান, আরও ১৫টির প্রবেশে কড়াকড়ি ট্রাম্পের

rump midterm impeachment warning

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার একটি নতুন প্রোক্লেমেশন জারি করে দেশের অভিবাসন নীতিতে আরও এক দফা কড়াকড়ি আরোপ করলেন। জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা, দুর্বল ভেটিং ব্যবস্থা এবং উচ্চ হারে ভিসা ওভারস্টে—এই যুক্তিতে আরও ২০টি দেশ ও প্যালেস্টিনীয়দের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। এর ফলে ট্রাভেল ব্যান বা এন্ট্রি রেস্ট্রিকশনের আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল মোট ৩৯টি।

হোয়াইট হাউস প্রকাশিত ফ্যাক্ট-শিট অনুযায়ী, নতুন ঘোষণায় পাঁচটি দেশের ওপর সরাসরি সম্পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে—বুর্কিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া। একই সঙ্গে প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি-জারি করা ভ্রমণ নথি বহনকারী প্যালেস্টিনীয়দেরও এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, লাওস ও সিয়েরা লিওনের ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে—যে দুই দেশ আগে আংশিক প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণের আওতায় ছিল। এই সম্প্রসারিত নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

   

ট্রাভেল ব্যান আরোপের প্রস্তুতি

এই ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোএম জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বিদ্যমান ১৯টি দেশের তালিকা বাড়িয়ে ৩০টিরও বেশি দেশের ওপর ট্রাভেল ব্যান আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও তখন তিনি নির্দিষ্ট দেশের নাম বা চূড়ান্ত সংখ্যার বিষয়ে কিছু জানাননি।

এর আগে আমেরিকা ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল—আফগানিস্তান, মায়ানমার (বার্মা), চাদ, রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন।

‘হার্ডলাইন’ অবস্থানের আরও এক ধাপ অগ্রগতি

ট্রাম্প প্রশাসনের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে অভিবাসন নীতিতে ‘হার্ডলাইন’ অবস্থানের আরও এক ধাপ অগ্রগতি হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে গত ২৬ নভেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য খুন হওয়ার ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনের নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে। ওই হামলাকারী ছিলেন এক আফগান নাগরিক, যিনি ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারের পর দেশে প্রবেশ করেন এবং চলতি বছর ভেটিংয়ের পর আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) পান। এই ঘটনাকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন ভেটিং প্রক্রিয়া ও আশ্রয় নীতির কড়া সংস্কারের দাবি তুলেছে।

এর পাশাপাশি, গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের অতর্কিত হামলায় দুই আমেরিকান সেনা ও এক আমেরিকান নাগরিক অনুবাদক নিহত হওয়ার ঘটনাও এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

১৫টি দেশের ওপর আংশিক প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ

নতুন প্রোক্লেমেশনে আরও ১৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আংশিক প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে—অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, কোট দিভোয়ার, ডোমিনিকা, গ্যাবন, গাম্বিয়া, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তানজানিয়া, টোঙ্গা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

এছাড়া বুরুন্ডি, কিউবা, টোগো ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের ক্ষেত্রে আগের মতোই আংশিক প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকছে।

তবে এই তালিকায় একমাত্র ব্যতিক্রম তুর্কমেনিস্তান। নতুন নির্দেশিকায় তুর্কমেনিস্তানের নাগরিকদের জন্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ওপর থাকা কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।

কেন এই নতুন কড়াকড়ি?

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ এবং উচ্চ হারে ভিসা ওভারস্টে—এই তিনটি বিষয়ই নতুন নিষেধাজ্ঞার মূল ভিত্তি। বুর্কিনা ফাসো, মালি, নাইজার ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলিকে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী হুমকির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে একাধিক দেশের ক্ষেত্রে বি-১/বি-২ এবং ছাত্র ভিসার ওভারস্টে হার উদ্বেগজনক বলে আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

সিরিয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে বলা হয়েছে, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ফলে সেখানে পাসপোর্ট বা নাগরিক নথি জারি করার মতো কার্যকর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর অভাব রয়েছে।

দেশি নাগরিকদের প্রবেশ রোধ করাই লক্ষ্য

হোয়াইট হাউসের ফ্যাক্ট-শিটে বলা হয়েছে, “এই প্রোক্লেমেশনের মাধ্যমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসদমন কৌশলের জন্য অপরিহার্য। এমন বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ রোধ করাই এর লক্ষ্য, যাঁদের বিষয়ে ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় না কিংবা যাঁদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারের সহযোগিতা নিশ্চিত করা কঠিন।”

তবে এই নির্দেশিকায় আমেরিকার বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী), ইতিমধ্যেই ভিসাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, কূটনীতিক, ক্রীড়াবিদ এবং আমেরিকার জাতীয় স্বার্থে যাঁদের প্রবেশ প্রয়োজন—তাঁদের জন্য ছাড় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কেস-বাই-কেস ওয়েভারের ব্যবস্থাও বহাল থাকছে। তবে পারিবারিক অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে আগের কিছু ছাড় সংকুচিত করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই ক্ষেত্রগুলিতে জালিয়াতির ঝুঁকি তুলনামূলক ভাবে বেশি।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন