
তেহরান: এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ গণবিক্ষোভের সাক্ষী হচ্ছে ইরান। গত ১২ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে বৃহস্পতিবার রাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। নির্বাসিত ইরানি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। বিক্ষোভ দমাতে তড়িঘড়ি করে সারা দেশে ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে খামেনেই প্রশাসন।
অন্ধকারের কবলে ইরান
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা NetBlocks নিশ্চিত করেছে যে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর থেকে ইরানে জাতীয় পর্যায়ে ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ চলছে। শুধু ইন্টারনেট নয়, ল্যান্ডলাইন এবং মোবাইল নেটওয়ার্কও বড় পরিসরে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যাতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি দুবাই থেকে ইরানে আসা ফোন কলগুলোও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজপুত্রের আহ্বান ও ‘শেষ যুদ্ধ’ Iran internet blackout
ইরানের প্রাক্তন শাহ-র পুত্র রেজা পাহলভি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাত ৮টায় একযোগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। সেই সময় হওয়ার সাথে সাথেই তেহরানের প্রতিটি মহল্লা স্লোগানে কেঁপে ওঠে। ঘরবাড়ি ও রাস্তা থেকে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন, “স্বৈরাচার নিপাত যাক!” এবং “পাহলভি ফিরে আসবেন!”। অনেক জায়গায় এই আন্দোলনকে ‘শেষ যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে পাহলভি বলেন, “ইরানের মহান জাতি, আজ সারা বিশ্বের নজর তোমাদের দিকে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নিজেদের দাবি আদায় করো।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালালে তার ফল ভোগ করতে হবে।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
ইরানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইরান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যদি তারা সাধারণ মানুষকে হত্যা করা শুরু করে, তবে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানব।” পাহলভি এই সমর্থনের জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকেও ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
নিহতের সংখ্যা বাড়ছে
হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (HRANA)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ দিনের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ২২৬০ জনেরও বেশি মানুষকে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বেকারত্বের কারণে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
থমথমে পরিস্থিতি
ইরানের বিমানবন্দরগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাব্রিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশ কিছু জায়গায় বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবর পাওয়া গেছে। ইরান সরকার ড্রোন মোতায়েন করে বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করার হুমকি দিলেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কমেনি।
বিরাজমান এই পরিস্থিতিতে ইরানের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়।










