চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ স্বপ্ন, গোয়েন্দা রিপোর্টে কাঁপছে বাবরের দেশ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তানে,তার সাথে এবারের টুর্নামেন্ট ও কার্যত স্বপ্ন পাকিস্তানের কাছে। পর পর দুটি ম্যাচ হেরে তারা টুর্নামেন্টের বাইরে। এর ই মধ্যে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই এখনই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, সেই কারণেই ভারতীয় দল নিরাপত্তার অভাবে খেলতে যায়নি। ভারতীয় দলের সমস্ত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুবাইতে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির টুর্নামেন্টে সেই নিরাপত্তা ইস্যু আবার বড় হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা দপ্তর এবার সারা বিশ্বকে সতর্ক করে দিয়েছে, যে পাকিস্তানে যে কোনও সময় জঙ্গি হামলা হতে পারে এবং বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করা হতে পারে।

Advertisements

এই সতর্কবার্তা থেকে জানা গেছে যে, ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স বিদেশি নাগরিকদের অপহরণের পরিকল্পনা করছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, আরব ও চীনের নাগরিকরা জঙ্গিদের প্রধান টার্গেট হতে পারে, যা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে । পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খেলার সময় কিংবা টুর্নামেন্ট দেখতে আসা বিদেশি দর্শকদের উপর হামলা হতে পারে। পাকিস্তান সরকার, ইতিমধ্যেই এই রিপোর্টের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া হয়েছে ।

   

গোয়েন্দা রিপোর্টের পর পাকিস্তানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানে বর্তমানে চলছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্ব, এবং এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের অপহরণের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে। পাকিস্তানে আসা বিদেশি দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুরো দেশব্যাপী নিরাপত্তা পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে। ক্রিকেট দলগুলো এবং বিদেশি অতিথিদের হোটেলগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ম্যাচের পর এই খবর প্রকাশ্যে আসায়, অনেকেই উদ্বিগ্ন।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অবশ্য এই পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পিসিবি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা নিশ্চিত করেছেন যে, টুর্নামেন্ট সুষ্ঠূ ভাবে আয়োজিত হবে এবং নিরাপত্তা বিষয়ক যে কোনও সমস্যার সমাধান করা হবে। তবে, ২০০৯ সালে করাচিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের উপর জঙ্গি হামলার ঘটনার স্মৃতি এখনো অম্লান। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কায় বর্তমানে পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে শোরগোল পড়েছে ।

গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের পর পাকিস্তানে থাকা বিদেশি নাগরিকরা শিকার হতে পারে। বিশেষত, বন্দরের কাছাকাছি এলাকা, বিমানবন্দর এবং অফিস বা হোটেল থেকে অপহরণ করা হতে পারে বিদেশিদের। এই ধরনের হামলা বা অপহরণের ঘটনায় পুরো পাকিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা কড়া করা হয়েছে। গোয়েন্দা দপ্তর বলছে, একাধিক জঙ্গি সংগঠন একযোগে বিদেশি নাগরিকদের অপহরণের চেষ্টা করতে পারে, আর এই প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও দৃঢ় করা হয়েছে।

এই নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে পাকিস্তান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কিভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পরিচালনা করবে, যেখানে দেশের সুনাম ও নিরাপত্তা প্রশ্নে রয়েছে। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যাতে এই টুর্নামেন্ট সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়। তবে, বিদেশি ক্রিকেট দল ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তান সরকার সতর্কভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা দপ্তরের এই সতর্কতা, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সুষ্ঠূ আয়োজনের পথে এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আপাতত কড়া হলেও, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে ঘিরে এমন উদ্বেগ এবং নিরাপত্তা সমস্যার সৃষ্টি হলে বিশ্বব্যাপী পাকিস্তানের ইমেজের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements