
দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের রাজনৈতিক নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরলেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ নম্বর ফ্লাইট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আলিঙ্গনে স্বাগত জানান বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা। দীর্ঘদিন পর নেতার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিমানবন্দর চত্বরেই আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
বিমানবন্দরে অবস্থানকালীন সময়েই ফোনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতার জন্য সরকারপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। কথোপকথনে সৌজন্য বিনিময়ের পাশাপাশি ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজও নেন বিএনপি নেতা।
বিমানবন্দর ত্যাগের আগে এক প্রতীকী মুহূর্তে খালি পায়ে ঘাসে দাঁড়িয়ে দেশের মাটি স্পর্শ করেন তারেক রহমান। হাতে তুলে নেন একমুঠো মাটি—যা ঘিরে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবেগ আরও ঘনীভূত হয়।
এরপর দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট নাগাদ বিএনপির দলীয় রঙে সাজানো বাসে চড়ে তিনশো ফিট সড়কের দিকে রওনা হন তিনি। রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বাসের সামনের অংশ থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে ধীরগতিতে এগোয় তাঁর গাড়িবহর।
তিনশো ফিট সড়কে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে মঞ্চে উঠে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা তারেক রহমানের। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সরাসরি যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে, যেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁর মা, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
অন্যদিকে, বিমানবন্দর থেকে পৃথক গাড়িতে গুলশানের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমানের স্ত্রী ও কন্যা।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে সকাল থেকেই বিমানবন্দর সড়ক ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফুল নিয়ে নেতা-কর্মীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা-স্বাগতম’ সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন। জনস্রোতের জেরে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।
নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনও ঝুঁকি না রাখতে বিমানবন্দর চত্বর থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য।
সকাল থেকেই তিনশো ফিট এক্সপ্রেসওয়ে কার্যত জনসভাস্থলে পরিণত হয়। দেশের নানা প্রান্ত—বরিশাল, রাজশাহী, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে রাতেই ঢাকায় পৌঁছন হাজার হাজার নেতা-কর্মী। অনেকে খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটান। মঞ্চ ও সংলগ্ন এলাকায় তিল ধারণের জায়গা নেই, গোটা এলাকায় উৎসবের আবহ।
মঞ্চের ব্যানারে লেখা—‘জনাব তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’। নিরাপত্তার স্বার্থে মঞ্চের চারপাশে কড়া নজরদারি চলছে।
এর আগে ঢাকায় পৌঁছনোর পথে তারেক রহমানের ফ্লাইট সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি নেয়। বিমানের ভেতর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “অবশেষে সিলেটে, বাংলাদেশের মাটিতে!” তারও আগে আরেকটি পোস্টে উল্লেখ করেন, “৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।”
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপি শিবিরে এই মুহূর্তে প্রবল উচ্ছ্বাস ও রাজনৈতিক প্রত্যাশার আবহ স্পষ্ট।










