
ঢাকা: দীর্ঘ সতেরো বছরের নির্বাসন পর্ব শেষ করে দেশে ফিরেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি সূত্রের দাবি, ঢাকায় পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্য ও শীর্ষ দলীয় নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় সেরে নিয়েই ইউনূসকে ফোন করেন খালেদা জিয়ার পুত্র।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকেই তারেকের প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ স্পষ্ট। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সংবর্ধনাস্থল, সব জায়গাতেই বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিপুল উপস্থিতি চোখে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেকের ফোনালাপ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তারিক
দলীয় সূত্রের খবর, ওই কথোপকথনে তারেক রহমান ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। পাশাপাশি, দেশে ফেরার সময় তাঁর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে কৃতজ্ঞতা জানান। সৌজন্যমূলক হলেও এই ফোনালাপকে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষে ব্রিটেনে বিএনপির এক আলোচনা সভায় প্রকাশ্যেই দেশে ফেরার দিন ঘোষণা করেছিলেন তারেক। সেই ঘোষণার পর বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমানে চেপে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে তাঁর বিমান ঢাকায় অবতরণ করে।
লন্ডনে তারেকের সঙ্গে বৈঠক
সূত্রের দাবি, চলতি বছরের ১৭ জুন লন্ডন সফরে গিয়ে ইউনূস নিজেই তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে নির্বাচন এবং ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
নির্বাচনী প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে বিএনপি। ইতিমধ্যেই ২৭২টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ফেনী–১, বগুড়া–৭ এবং দিনাজপুর–৩—এই তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বগুড়া–৬ আসন থেকে লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারেক রহমান নিজেই।
তবে দেশে ফিরলেও একটি প্রশাসনিক জটিলতা এখনও মেটেনি। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে তারেকের নাম বর্তমানে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নেই। বিএনপি সূত্রে খবর, শনিবার নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদন জানাবেন তিনি।
২০০৭-এ গ্রেফতার হন তারেক
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়েছিলেন তারেক রহমান। পরের বছর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে সপরিবারে ব্রিটেনে চলে যান তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২১ অগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশে ফিরে তাঁর গ্রেফতার বা আইনি জটিলতায় জড়ানোর আশঙ্কা নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও ইউনূসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।










