
ঢাকা: বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশই জোরালো রূপ নিচ্ছে। গত শুক্রবার ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ছাত্র নেতা শরিফ উসমান হাদি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকার ছয় দিন পর মারা যান তিনি৷ তাঁর মৃত্যু দেশজুড়ে সহিংস প্রতিবাদের নতুন ঢেউ সৃষ্টি করেছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িত ফের হামলা
দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ধানমণ্ডি-৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুরনো বাসভবন, যা পূর্বে দুইবার ধ্বংস করা হয়েছিল, সেখানে আবারও ভাঙচুর চালানো হয়।
একই সময়ে, রাত প্রায় ১১:১৫ টার দিকে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মোহিউদ্দিনের বাড়িও আগুনে পুড়ে যায়, আর রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ পার্টির অফিস ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনজীবন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিপর্যস্ত হয়েছে।
প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সহিংসতা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র করছে এবং নির্বাচনের আগে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।
হাদি কে?
হাদি ছিলেন গত বছরের শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময় উঠে আসা একজন প্রভাবশালী ছাত্র নেতা। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুণ প্রজন্মের চেতনার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক জনমতকে একত্রিত করার ক্ষমতা থাকায় তার মৃত্যুতে ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ জনগণ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন স্থানের অফিস ভাঙচুর ও আগুন লাগাচ্ছে। লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে প্রভাবশালী দৈনিক সংবাদপত্র প্রথম আলো ও দ্যা স্টার-এর অফিস। এছাড়া, রাজধানীর ধানমণ্ডি-৩২-এ অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুরনো বাসভবনও পুনরায় ভাঙচুর ও দগ্ধ হয়েছে। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মোহিউদ্দিন-এর বাসভবনও রাতের অন্ধকারে আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। রাজশাহীর আওয়ামী লীগ-এর অফিস দগ্ধ হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে।
অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন
স্থানীয় সূত্রের খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের কয়েকটি এলাকা এখনও উত্তেজনার সঙ্গী হয়ে আছে, যা পরিস্থিতির গুরুতরতার ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস হাদির মৃত্যুকে দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক জীবনের জন্য গভীর ধাক্কা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগের এই সহিংসতা শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতারই ইঙ্গিত নয়, বরং দেশের ভোটাধিকারের ভবিষ্যত এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও বড় ধরনের সংকেত বহন করছে। তরুণ নেতার মৃত্যু নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপকে উস্কে দিয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




