ভিক্টিম নিখোঁজ, মামলার ভিত্তি ধূলিসাৎ! তবুও হাসিনাকে ফাঁসাতে PBI-এর ওপর ‘চাপ’

PBI on Sheikh Hasina fake case

ঢাকা: শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলার ভিত্তি কার্যত ধসে পড়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতকে জানিয়েছে, ‘ভিক্টিম’ বা আহতের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি বাদীর দেওয়া তথ্য ও পরিচয়পত্রও জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই স্পর্শকাতর তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর সংস্থাটি এখন তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

Advertisements

মামলার অসারতা ও পিবিআই-এর চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি থানায় মো. শরীফ নামে এক ব্যক্তি এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছিল, ৪ আগস্ট ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন তাঁর ছোট ভাই সাহেদ আলি (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ওবায়দুল কাদেরসহ ১১২ জন আওয়ামী লীগ নেতাকে আসামি করা হয়।

   

তদন্তভার নেওয়ার পর পিবিআই-এর পরিদর্শক শাহজাহান ভূঁইয়া আদালতকে জানান, পুরো মামলাটি “তথ্যগত ভুলে” (Factual Errors) ভরা। তদন্তে উঠে আসা মূল অসংগতিগুলো হলো:

অস্তিত্বহীন ভিক্টিম: এজাহারে উল্লেখিত ঠিকানায় সাহেদ আলী নামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব মেলেনি। এমনকি সীমান্ত স্কোয়ারে তাঁর কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার দাবিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

ভুয়া বাদী ও পরিচয়: বাদীর দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) জাল এবং তাঁর দেওয়া ঠিকানায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ভুয়া জখমি তালিকা: মামলায় আরও ৯ জন ছাত্রকে আহত হিসেবে দেখানো হলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র বাদী পেশ করতে পারেননি।

তদন্তকারী সংস্থার ওপর রাজনৈতিক ‘চাপ’ PBI on Sheikh Hasina fake case

পিবিআই গত ৫ নভেম্বর চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়ে শেখ হাসিনাসহ ১১২ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। তবে সম্প্রতি সংস্থাটি এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, এই সুপারিশের পর তাদের ওপর নানা মহল থেকে ‘চাপ’ সৃষ্টি করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, তারা অত্যন্ত সততার সঙ্গে প্রতিটি মামলা তদন্ত করছে, কিন্তু যেখানে ঘটনার কোনো অস্তিত্ব নেই, সেখানে আইনি ভিত্তি ছাড়াই কাউকে অভিযুক্ত করা সম্ভব নয়।

আইনি ব্যবস্থার ‘অস্ত্রায়ন’ ও অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যখন বিচার বিভাগীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন এই ধরণের ‘ভুয়া’ ও ‘গায়েবি’ মামলা সরকারের নিরপেক্ষতাকে কাঠগড়ায় তুলছে। আওয়ামী লীগের দাবি, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কয়েক হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তথ্যমতে, গত ৩ মাসে সারা দেশে প্রায় ২,২৬৪টি মামলায় অন্তত ৩২,০০০ রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার ধসে পড়া আসলে বাংলাদেশের বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় এক ধরণের ‘অ্যালার্মিং’ সংকেত। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়া গুরুতর সব ধারায় যেভাবে ঢালাও মামলা নেওয়া হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

পিবিআই-এর চূড়ান্ত রিপোর্টে মামলাটিকে “মৌলিকভাবে অবিশ্বাস্য” (Fundamentally Unreliable) বলে অভিহিত করা হয়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই রিপোর্টের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত পিবিআই-এর এই অব্যাহতি পত্র গ্রহণ করবে নাকি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Bangladesh: The attempted murder case against Sheikh Hasina falls apart as Bangladesh’s PBI finds no victim. Investigators admit facing political pressure despite clearing 112 leaders. Read more on the weaponization of the law under the Yunus-led regime.

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements