
ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ধাক্কা (NCP leader shot in Khulna)সামলাতে না সামলাতেই ফের রক্তাক্ত বাংলাদেশ। অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র খুলনা বিভাগীয় প্রধান ও দলটির শ্রমিক সংগঠন ‘শ্রমিক শক্তি’-র কেন্দ্রীয় সংগঠক মোহাম্মদ মোতালেব সিকদার। সোমবার দুপুরে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ সোনাডাঙ্গা থানার এলাকায় মোতালেব সিকদারের মাথায় গুলি লাগে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (KMCH)-এ নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর মাথার সিটি স্ক্যান করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থার উপর কড়া নজর রাখছেন।
“আমি যে ব্যক্তিকে চিনতাম তিনি আর নেই”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য হুমায়ুনের
ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জাগোনিউজ২৪-এর দাবি অনুযায়ী, খুলনার গাজী মেডিক্যাল এলাকার আল-আকসা মসজিদ লেনের একটি ভাড়া বাড়িতে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ওই বাড়িটি একটি দম্পতি ভাড়া নিয়েছিলেন এবং সিকদারের সঙ্গে সেখানে থাকা এক নারীর যোগাযোগ ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে। পুলিশ বাড়িটি তল্লাশি করে বিদেশি মদের বোতল ও মাদক সেবনের সামগ্রী উদ্ধার করেছে। ওই নারীর পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
খুলনার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরেও হতে পারে। তাঁর কথায়, ওই এলাকার আশপাশে আগে থেকেই মাদক ও নারীঘটিত অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। তবে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এনসিপির খুলনা অঞ্চলের চিফ কো-অর্ডিনেটর মুফতি ফয়জুল্লাহ দাবি করেছেন, সিকদারের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে তিনি একটি দোকানে চা খাচ্ছিলেন। সঙ্গীরা চলে যাওয়ার পর হেলমেট পরা কয়েকজন তাঁকে একটি গলিতে টেনে নিয়ে যায়, মারধর করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ফয়জুল্লাহ এই হামলার পিছনে আওয়ামি লিগের হাত থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছেন, যদিও এই দাবি এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে, হাদি হত্যার পর বাংলাদেশের রাজনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে গভীর সংকটে, খুলনায় এনসিপি নেতাকে গুলি করার ঘটনা তারই আরেকটি ভয়াবহ ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ও প্রশাসন কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।










