“আমি যে ব্যক্তিকে চিনতাম তিনি আর নেই”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য হুমায়ুনের

মুর্শিদাবাদ: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তাল হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দান। এই আবহেই নতুন রাজনৈতিক ঝড় তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক…

humayun-kabir-janata-unnayan-party-candidates

মুর্শিদাবাদ: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তাল হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দান। এই আবহেই নতুন রাজনৈতিক ঝড় তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। সোমবার সকালে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক প্রকাশ্য সভা থেকে তিনি ঘোষণা করলেন তাঁর নতুন দল—জনতা উন্নয়ন পার্টি (Janata Unnayan Party – JUP)। দল ঘোষণার মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি।

Advertisements

হুমায়ুন কবির বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ আর সেই মানুষটি নন, যাঁকে আমি একসময় চিনতাম ও অনুসরণ করতাম। ১৫ বছর আগের মমতা আর আজকের মমতার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।” তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের আয়ের উৎস নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, প্রয়োজন হলে সব তথ্য জনগণের সামনে আনবেন।

   

বেলডাঙার সভায় হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করে দেন, তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য একটাই—২০২৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরানো। তিনি বলেন, “২০২৬ সালে বাংলায় আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হবেন না। তাঁকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই ইতিহাসে লেখা হবে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে পরোক্ষ সমঝোতার ফলেই রাজ্যে আরএসএস-এর সংগঠনগত বিস্তার ঘটেছে।

যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ ছিল প্রবল, তবুও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তাঁর কথায়, “অভিষেক একজন প্রতিভাবান যুবনেতা। যদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা পায়, তাহলে সে ভবিষ্যতে নিজেকে একজন দক্ষ রাজনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।”

নতুন দল প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, জনতা উন্নয়ন পার্টি সাধারণ মানুষের দল। তাঁর দাবি, এই দল সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজসহ সব প্রান্তিক মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে JUP প্রায় ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবে এবং রাজ্যে কমপক্ষে ৭০ জন মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “যদি সত্যিই শক্তি থাকে, তাহলে আমাকে ছুঁয়ে দেখান।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে আরও দৃঢ়ভাবে সংগঠিত করার কৌশল নিয়েছেন।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, আসন্ন নির্বাচনে হুমায়ুন কবিরের দল AIMIM প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসির সঙ্গে জোট গড়তে পারে। বিহারে AIMIM-এর সাম্প্রতিক সাফল্যের পর বাংলায় দলটির বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সম্ভাব্য জোটকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুন কবিরের নতুন দলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদারের বক্তব্য, “এর আগেও বহু এ ধরনের দল তৈরি হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে। এটা মানুষের নজর কাড়ার চেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।”

বিজেপিও হুমায়ুন কবিরকে কটাক্ষ করেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, “হুমায়ুন কবির এখনও তৃণমূলের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন। ভোট কাটার উদ্দেশ্যেই এই নতুন দলের নাটক। মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক যাত্রাপথ বরাবরই বিতর্কপূর্ণ। ২০১৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনার কারণে তিনি তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর নির্দল, কংগ্রেস ও বিজেপি—একাধিক রাজনৈতিক শিবির বদল করলেও বড় সাফল্য পাননি। এখন দেখার, নতুন দল গড়ে তিনি আদৌ ২০২৬ সালের নির্বাচনে কোনও বড় প্রভাব ফেলতে পারেন কি না।

Advertisements