ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ময়দানে ফের ঝড় উঠেছে শহীদ শরীফ (Inqilab Mancha)ওসমান হাদীর হত্যার প্রতিবাদে। হাদীর প্রতিষ্ঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর ছাত্র ও যুবকর্মীরা ভারতবিরোধী বক্তব্যকে আরও তীব্র করে তুলেছেন। তারা অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ২৪ কার্যদিবসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তাদের দাবি হাদীর হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে এই সময়ের মধ্যে।
এছাড়া ভারতের কাছে দাবি জানানো হয়েছে হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দিতে, না হলে বাংলাদেশে কর্মরত সব ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট স্থগিত করা হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) ভারতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। এই দাবিগুলো ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করে ঘোষণা করা হয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।
‘যারা জেহাদি নয় তাদের মুখ বন্ধ!’ কাকে নিশানা তথাগতের ?
শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ভারতবিরোধী কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন প্রায়ই ‘ভারতীয় আধিপত্য’ এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের সমালোচনা করতেন। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হত্যার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ভারতবিরোধী রূপ নেয় কারণ অভিযোগ উঠেছে যে হত্যাকারীরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত এবং ভারতে পালিয়ে গেছে।ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের শাহবাগে (যাকে এখন হাদী চত্বর বলা হচ্ছে) বিক্ষোভ থেকে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেছেন, “হত্যাকারী, পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী এবং আশ্রয়দাতা সবাইকে ২৪ কার্যদিবসের মধ্যে গ্রেফতার করে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। ভারত যদি হত্যাকারীদের ফিরিয়ে না দেয় বা স্পষ্ট বিবৃতি না দেয়, তাহলে বাংলাদেশে থাকা সব ভারতীয়ের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হোক। এছাড়া আইসিজে-তে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।” এই দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেওয়া।
এই আল্টিমেটামের পর ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ তীব্র হয়েছে। শাহবাগ অবরোধ করা হয়েছে, ভারতীয় দূতাবাসের দিকে মিছিল হয়েছে। কিছু বিক্ষোভকারী ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছেন। হাদীর ভাই ওমর হাদী তো সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশকে হত্যার জন্য দায়ী করেছেন, বলেছেন এটা নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র। ইউনুস সরকার অবশ্য হত্যার নিন্দা করে বলেছেন, “এই ধরনের হিংসার নতুন বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই।” তিনি হাদীর জানাজায় অংশ নিয়ে তাঁকে ‘জাতির অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে সম্মান জানিয়েছেন।
