
এসআইআর-এর শুনানি চলাকালীন ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। চুঁচুড়া-মগড়া ব্লক অফিসে সম্প্রতি এই শুনানি চলাকালীন বিধায়ক অসিত মজুমদারের হুমকিতে সভাস্থল অস্থির হয়ে ওঠে। জানা গিয়েছে, শুনানিতে বিএলএ ২-দের ঢোকানো নিয়ে বাঁধার সৃষ্টি হয়। তবে বিধায়ক সরাসরি হস্তক্ষেপ করে বলে দেন, তাদের শুনানিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। না হলে পুরো শুনানি বন্ধ থাকবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় তখন, যখন ব্লক অফিসে উপস্থিত কর্মীরা বিএলএ ২-দের শুনানিতে ঢোকাতে চাইছিলেন, কিন্তু প্রশাসনিক কারণে কিছু বাধা দেখা দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিধায়ক অসিত মজুমদার। তিনি সরাসরি বলেন, “বিএলএ ২-দের অবশ্যই শুনানিতে রাখতে হবে। যদি তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত না করা হয়, শুনানি চলতে পারবে না।” এই হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিধায়কের হস্তক্ষেপে বিডিও (Block Development Officer)-র সঙ্গে কথার মতবিরোধও দেখা দেয়। উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিধায়ক এবং বিডিওর মধ্যে তর্কের সময় উচ্চস্বরে কথা বলা ও উত্তেজনা ছড়ানোর ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে যায়।
এরপর বিধায়ক নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে শুনানি বন্ধ করে দেন। জানা গেছে, তিনি অফিসের বাইরে গিয়ে নিজস্ব অফিস থেকে সরাসরি ফোন করে এসডিও (Sub-Divisional Officer)-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শুনানির স্থগিতকরণের নির্দেশ দেন। এই পদক্ষেপে প্রশাসনিক কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিধায়কের হস্তক্ষেপে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বাধ্য হয়েছেন, যা শুনানির স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রশ্নে দ্বিধা সৃষ্টি করেছে। তবে প্রশাসন বলছে, সব ধরনের পদক্ষেপ আইন ও নিয়ম মেনে নেওয়া হয়েছে। এসডিও এবং বিডিওও জানিয়েছেন, ঘটনাটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটেছে।
বিধায়কের হস্তক্ষেপের পর ব্লক অফিসে উত্তেজনা কাটতে কিছুটা সময় লেগেছে। শোনা গেছে, অফিসের বাইরে উপস্থিত কিছু মানুষও এই ঘটনার খবর নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শুনানির স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে, বিধায়ক অসিত মজুমদারের পক্ষের বক্তব্য, “আমাদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সকলকে শুনানিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।”










