
নয়াদিল্লি, ঢাকা: ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনের নিরাপত্তা ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বুধবার বাংলাদেশের হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাকে তলব করল ভারত। সংবাদ সংস্থা ANI সূত্রে খবর, সম্প্রতি ভারতীয় হাই কমিশনকে লক্ষ্য করে একটি হুমকি বার্তা পাওয়ার পরই এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় নয়াদিল্লি। যদিও সরকারিভাবে হুমকির প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
‘সেভেন সিস্টার্স’
এই তলবের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশের এক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার এক সমাবেশে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)-র নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য—যা ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত—কে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে প্রতিরোধের আগুন সীমান্ত পেরিয়ে ছড়াবে। আপনারা যেহেতু আমাদের অস্থিতিশীল করার লোকজনকে আশ্রয় দিচ্ছেন, আমরাও সেভেন সিস্টার্সের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেব।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহ তৈরি হয়েছে এমন সময়, যখন ভারত সদ্য বিজয় দিবস পালন করেছে—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের ৫৪তম বর্ষপূর্তি। ওই উপলক্ষে বাংলাদেশও প্রকাশ্যে জানিয়েছিল যে নয়াদিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক পারস্পরিকভাবে লাভজনক। তবে বাস্তবে দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে যথেষ্ট চাপে রয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন স্পষ্ট
বিশেষ করে গত বছর শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকারের পতন-এর পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সমীকরণে টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়েছে ঢাকার তরফে। গত মাসে গত বছরের অশান্তির ঘটনায়—যাতে ৫০০-র বেশি মানুষ নিহত হন—মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় বাংলাদেশের একটি আদালত।
বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ
বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করছে বলেও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও নয়াদিল্লি বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ভারত। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এই তলবের মাধ্যমে নয়াদিল্লি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে—ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।










