বিএনপি নেতার বিস্ফোরক বয়ানে হাদি হত্যায় চাঞ্চল্যকর মোড়

hadi-murder-bnp-niloufer-jamaat-link-india-blame

ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে (Hadi murder BNP leader)নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার এই ঘটনায় চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন বিএনপি নেতা নিলুফার। তাঁর বক্তব্যে, হাদি হত্যার মূল অভিযুক্তের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামির যোগাযোগ ছিল এবং একাধিকবার জামিন পাওয়ার পিছনে জামায়াতপন্থী আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব কাজ করেছে। এই দাবির পরেই মামলার তদন্ত ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

নিলুফারের দাবি অনুযায়ী, হাদি হত্যার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে থেকেই অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রভাবশালী নেতা শিসির মুনিরের সহায়তায় দু’বার জামিন পেয়েছিলেন। নিলুফারের বক্তব্য, “এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন অভিযুক্ত বারবার জামিন পায়, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। এর পিছনে রাজনৈতিক ও আদর্শগত যোগসূত্র উপেক্ষা করা যায় না।”

   

মোদী-শাহর সঙ্গে বৈঠকে বিহারের উন্নয়ন ও রাজ্যসভা ভোটে নজর নীতিশের

এই মন্তব্যের মাধ্যমে নিলুফার পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হাদি হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর সঙ্গে সংগঠিত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ও আদর্শিক মদত থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্যে, তদন্ত যদি নিরপেক্ষভাবে এগোয়, তাহলে এই যোগসূত্রগুলি সামনে আসবেই।

একই সঙ্গে নিলুফার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের সমর্থকদের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, হাদি হত্যার পর প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতে একটি নির্দিষ্ট মহল পরিকল্পিতভাবে “ভারত করেছে” স্লোগান তুলে জনমতকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। নিলুফারের ভাষায়, “ইউনুসের সমর্থকরা চিৎকার করে বলছে ‘ইন্ডিয়া ডিড ইট’। এটা আসলে মনোযোগ ঘোরানোর কৌশল।”

বিএনপি নেতার আরও দাবি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সহিংসতা, চরমপন্থা ও বিচারহীনতার দায় অন্য দেশের ঘাড়ে চাপালে সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি স্পষ্ট বলেন, “ভারতকে দোষারোপ করে বাংলাদেশের পচন ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। সমস্যার শিকড় দেশের ভেতরেই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইউনুস প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন।

প্রসঙ্গত, হাদি হত্যার পর থেকেই বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। কোথাও এই হত্যাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলা হচ্ছে, আবার কোথাও বিদেশি হাতের তত্ত্ব সামনে আনা হচ্ছে। নিলুফারের বক্তব্য এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন