
ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এখন উত্তেজনায় ফুটছে (Dhaka unrest)। গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া বিশাল বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিয়ে ভারত-বিরোধী উন্মাদনা ছড়াচ্ছেন। এই অশান্তির মূলে রয়েছে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু।
সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে। হাদি ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং কট্টর ভারত-বিরোধী হিসেবে পরিচিত। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শাহবাগ চত্বরে জড়ো হয়েছেন শত শত বিক্ষোভকারী, যেখানে ‘আল্লাহু আকবর’-এর সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হচ্ছে।
শুরুতেই হারল ভারত! গিলের বদলে সুযোগ পেলেন এই তারকা ক্রিকেটার
এই বিক্ষোভের পেছনে আরও গভীর উদ্বেগ রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)-এর প্রধান জসিমুদ্দিন রহমানী গত বছর ইউনুস সরকারের আমলে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে খোলাখুলি ভারত-বিরোধী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এবিটি আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন, যারা ব্লগার হত্যার জন্য কুখ্যাত।
রহমানী মুক্তির পর ভারতকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মুসলমানকে একত্রিত করে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। তিনি উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাহায্য চেয়েছেন।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুসারে, এবিটির সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই-এর গভীর যোগাযোগ রয়েছে। তারা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিলে জিহাদি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সাম্প্রতিককালে অসমে এবিটির কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হয়েছে, যারা শিলিগুড়ি করিডরকে লক্ষ্য করে অশান্তি ছড়ানোর পরিকল্পনা করছিল।
এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে ইসলামি উগ্রবাদীদের উত্থান লক্ষণীয়। ইউনুস সরকারের আমলে জামায়াত-ই-ইসলামীসহ নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর নেতাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভে ‘আল্লাহু আকবর’-এর সঙ্গে ভারত-বিরোধী স্লোগান মিশে যাওয়া প্রমাণ করছে যে, উগ্রবাদী শক্তিগুলো এই অশান্তিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। ভারতীয় দূতাবাসগুলোতে হামলার চেষ্টা, ভিসা সেন্টার বন্ধ সবই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করছে।










