
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ফের এক বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হল এক যুবকের। বুধবার সন্ধ্যায় মগবাজার এলাকার একটি উড়ালপুলের (Dhaka blast incident) নিচে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণ রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নিহত যুবকের নাম সিয়াম, যিনি পেশায় একটি বেসরকারি কারখানার কর্মী বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রাথমিক বিবৃতি অনুযায়ী, মগবাজার ফ্রিডম ফাইটার্স মেমোরিয়ালের সামনে উড়ালপুলের নিচে আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, উড়ালপুলের উপর থেকে নিচের দিকে একটি দেশি তৈরি বিস্ফোরক ছুঁড়ে দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
বিস্ফোরণের জেরে গুরুতরভাবে আহত হন সিয়াম। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রথমদিকে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
পরিবারের দাবি, সিয়াম কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর কোনও রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক যোগসূত্র ছিল না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এক নিরীহ শ্রমজীবী মানুষের এমন আকস্মিক মৃত্যু এলাকাবাসীকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই ঢাকার রমনা ডিভিশনের পুলিশ বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরকের নমুনা সংগ্রহ করে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। আশপাশের দোকানপাটও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রমনা ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার মাসুদ আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট যে বিস্ফোরকটি উড়ালপুলের উপর থেকে নিচে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে এই হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং লক্ষ্যবস্তু কেউ নির্দিষ্ট ছিল কি না, তা এখনও তদন্তাধীন। তিনি আরও বলেন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এই বিস্ফোরণের দায় এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন বা অপরাধী গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। ফলে এটি সন্ত্রাসবাদী হামলা, নাশকতা নাকি বিচ্ছিন্ন অপরাধ—তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও সহিংসতার আবহে এই ধরনের ঘটনা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।
বিশেষ করে ঢাকার মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে বিস্ফোরক নিক্ষেপ প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, দোষীদের চিহ্নিত করতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নিহত সিয়ামের পরিবারের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
এই ঘটনার পর রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।










