ঢাকা: বাংলাদেশে যখন বিপন্ন হিন্দু সংখ্যালঘুরা (Bong Sena)। ঠিক এই সময়েই বাংলাদেশে ভাঙ্গনের ডাক দিল বাংলাদেশের হিন্দু সংগঠন বঙ্গসেনা। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছয়টি জেলা নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের এই দাবি করেছে তারা। সংগঠনের দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আলাদা রাষ্ট্র গঠন ছাড়া আর কোনও পথ নেই।
বঙ্গসেনার মুখপাত্র বিমল মাঝি এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হলে যশোহর, খুলনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও পটুয়াখালী এই ছয়টি জেলা নিয়ে হিন্দুদের জন্য পৃথক বঙ্গভূমি রাষ্ট্র গঠন করা প্রয়োজন।” তাঁর দাবি, এই অঞ্চলগুলিতে ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু জনসংখ্যা বেশি ছিল এবং এখান থেকেই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠে আসছে।
প্রতিষ্ঠা দ্বাদশী অনুষ্ঠানে রাজনাথ, রামের নামেই মুখর অযোধ্যা
বিমল মাঝির বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন নতুন নয়। তাঁর দাবি, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের সময় সেখানে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৮ শতাংশ। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অত্যাচার, ভীতি ও দেশত্যাগের ফলে বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ শতাংশে। সংগঠনটির মতে, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
বঙ্গসেনার পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, যদি দ্রুত এই ছয় জেলা নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে বিপুল সংখ্যক হিন্দু শরণার্থী বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে প্রবেশ করতে বাধ্য হবেন। বিমল মাঝির অনুমান অনুযায়ী, এই সংখ্যা পাঁচ কোটির কাছাকাছি হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “এই বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই নিতে হবে।”
সংগঠনটির দাবি এখানেই থামেনি। বঙ্গসেনার তরফে জানানো হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তারা দিল্লিতে অবস্থিত রাষ্ট্রসংঘের কার্যালয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন আর শুধুমাত্র একটি দেশের বিষয় নয়, এটি মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষার আন্তর্জাতিক প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
ইতিহাসের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছে বঙ্গসেনা। ১৯৭১ সালের পর থেকেই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হিন্দুদের উপর অত্যাচার শুরু হয় এবং তখন থেকেই আলাদা হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের ভাবনা জন্ম নেয়। এই আন্দোলনের প্রথম দিকের নেতৃত্বে ছিলেন কালিদাস বৈদ্য।
১৯৭৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গসেনা’ নামে সংগঠনটি গড়ে ওঠে। বিমল মাঝি আরও একটি তুলনা টেনে বলেন, “ইহুদি জাতিও এক সময় চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের রাষ্ট্র গঠন করেছে। একইভাবে বাংলাদেশের হিন্দুদেরও যদি বাঁচতে হয়, তাহলে আলাদা রাষ্ট্রই একমাত্র সমাধান।”
তবে এই দাবিকে ঘিরে প্রশ্নও উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একটি সার্বভৌম দেশকে ভেঙে নতুন রাষ্ট্র গঠনের দাবি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর আন্তর্জাতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, অভিবাসন সংকট এবং আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল সমীকরণের মধ্যে বঙ্গসেনার এই ‘বঙ্গভূমি’ দাবি নতুন করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
