নয়াদিল্লি: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ (BNP Sharia law)। প্রথমে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যা এবং তার পর ভারত বিরোধী ধংসলীলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল এই মুহূর্তে যথেষ্ট উত্তপ্ত। সর্বোপরি সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার এবং দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
এই আবহেই বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মির্জা ফখরুল মন্তব্য করেছেন যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে কোরান এবং হাদিসের বাইরে কোনও আইন হবে না। মির্জার এই মন্তব্যেই ফের গর্জে উঠেছেন বাংলাদেশের সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। তসলিম তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন “বিএনপি এখন টুপি পরে ফেলেছে। জামায়াতে ইসলামীর চেয়েও বড় জামায়াতে ইসলামী হতে চাইছে।” তাঁর দাবি, বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুলের বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে বিএনপি ধর্মীয় আইনের পথে দেশকে ঠেলে দিতে প্রস্তুত।
কিভাবে কোথায় পালাল হাদির খুনিরা? নতুন গল্প মহানগর পুলিশের
তসলিমা আরও লেখেন, কোরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে আইন চালু হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নারী ও সংখ্যালঘুরা। তাঁদের মৌলিক অধিকার বলে কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। পাশাপাশি প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তকদের বাকস্বাধীনতাও বিপন্ন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ধর্মীয় আইনের শাসনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যায়।
তসলিমার মতে, কোনও সভ্য ও আধুনিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় আইন রাষ্ট্রীয় আইনের জায়গা নিতে পারে না। তিনি লিখেছেন, “ধর্মীয় আইন মানবাধিকারবিরোধী, নারীবিরোধী, সমতাবিরোধী, বিজ্ঞানবিরোধী এবং আধুনিকতাবিরোধী।” তাঁর দাবি, এই ধরনের আইন ঘৃণা, হিংসা, সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্যকে আরও উসকে দেয়।
এই বিতর্কের সময়কালও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যা, ভারতবিরোধী স্লোগান ও বিক্ষোভ, সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ এবং হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলেছে। বিরোধী দলগুলির ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিএনপির এই বক্তব্য আসলে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আদর্শগত সাযুজ্য আরও স্পষ্ট করছে। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থকদের একাংশের দাবি, মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যদিও দলীয় স্তরে এখনও এই মন্তব্য নিয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলিও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁদের মতে, যদি কোনও রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ধর্মীয় আইনকে রাষ্ট্রীয় আইনের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে, তবে তা সংবিধান, নাগরিক অধিকার এবং সংখ্যালঘু সুরক্ষার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে তসলিমা নাসরিনের এই বিস্ফোরক মন্তব্য এবং বিএনপির শরিয়া আইন সংক্রান্ত অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
