
ঢাকা: হাসিনা ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়েই ছিল বাংলাদেশ। সেই আগুনে ঘৃতাহুতি হল ওসমান হাদির মৃত্যু (Muhammad Yunus statement)। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বাংলাদেশে জ্বলছে বিদ্রোহের আগুন। তার সঙ্গে চলছে ভারত বিরোধী স্লোগান। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিন্দু সংখ্যালঘু যুবক দিপু চন্দ্র দাসের হত্যার ঘটনা সারা বিশ্বে সারা ফেলে দিয়েছে। নির্মমভাবে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় দিপুকে।
শুক্রবার এই ইস্যুকেই কেন্দ্র করে মুখ খুললেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস। তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন কয়েকজন বিচ্ছিন্ন উগ্রবাদীর কর্মকান্ডের সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। তার এই বিবৃতিতে সরব হয়ে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলের একাংশ বলেছেন যে ইউনুস যখন জানেন যে তার দেশে এই উগ্র মৌলবাদী সংগঠন গুলি এত সক্রিয়। তবে তিনি আগেই কেন ব্যবস্থা নেন নি।
তারা যখন ভারত বিরোধী স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করে তখন কেন ইউনুস তার প্রতিবাদ করেননি। দিপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে ইউনুস বলেন, “ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে নিন্দা জানাই। এই ইস্যুতেই রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন করেছেন এখন জল এত দূর গড়িয়ে যাওয়ার পর দুঃখ প্রকাশ করে আর কি কোনও লাভ আছে ?
ইউনুস তাঁর বিবৃতিতে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি “ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের” মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং অল্প কয়েকজন বিশৃঙ্খলাকারীর জন্য সেই অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে তিনি শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং “জাতীয় অঙ্গীকার” হিসেবে উল্লেখ করেন, যা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার প্রসঙ্গেও ইউনুস কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও নিউ এজ এর সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা মানেই “সত্যের উপর হামলা”। পূর্ণ ন্যায়বিচারের আশ্বাসও দেওয়া হয়। তবুও রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই আশ্বাস কি বাস্তবে রূপ নেবে?
নাকি এটিও আগের মতোই বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? তার কারণ এর আগেই ইউনুস এরকম অনেক বিবৃতি দিয়েছিলেন কিন্তু তা সত্ত্বেও থামানো যায়নি উগ্রবাদীদের। তারা নির্বিচারে হত্যা করেছে সংখ্যালঘু হিন্দুদের। যার প্রমান গতকাল ও পাওয়া গিয়েছে ময়মনসিংহে। যার প্রমান উগ্রবাদীরা দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাসে হামলা করে।
রাজনৈতিক মহল এবং কূনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশ আজ এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবকিছু মিলিয়ে ইউনুস সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা, কথার সঙ্গে কাজের মিল কতটা রাখা যায়।










