বাংলাদেশে ফের ভয়াবহ অস্থিরতার ছবি (Bangladesh unrest protests) সামনে এল। ঢাকা শহরের কারওয়ান বাজার এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রথম সারির দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ক্ষোভ থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। অভিযোগ, ইনকিলাব মঞ্চ–এর বিক্ষোভকারীরা প্রথম আলো ভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, অফিসের আসবাব, কাচ, কম্পিউটার এবং নথিপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দাবি—ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা “পক্ষপাতদুষ্ট” ছিল এবং প্রকৃত সত্য আড়াল করা হয়েছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই উত্তেজিত জনতা প্রথম আলো ভবনের দিকে মিছিল করে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে ভবনে ঢুকে হামলা চালানো হয়। ঘটনার সময় অফিসে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীদের অনেকেই আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে একই সঙ্গে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর। একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবায় সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
ওসমান হাদির মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি, কিন্তু বিরোধী ও যুব সংগঠনগুলির একাংশ এটিকে “রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের ফল” বলে দাবি করছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে হিংসা ছড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের সাংবাদিক মহল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিভিন্ন প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের উপর এই ধরনের হামলা সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে জানায়, সংবাদ পরিবেশনের কারণে কোনও মিডিয়া হাউসকে লক্ষ্য করে হামলা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা বহন করে।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুব আন্দোলন এবং সংবাদমাধ্যমের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সহিংসতা থামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশে চলমান এই সহিংস বিক্ষোভ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে গোটা দক্ষিণ এশিয়াতেই নজরদারি চলছে।









