বাংলাদেশে (Bangladesh) তথাকথিত ‘বিপ্লবী’ আন্দোলনের দম শেষ হতে শুরু করেছে—এমনই ইঙ্গিত মিলল চট্টগ্রামে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে ঘিরে। আততায়ীদের গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই গোটা বাংলাদেশে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে রাজধানী ঢাকা-সহ একাধিক শহরে, বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস-এর সামনে।
চট্টগ্রাম শহরে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতীয় দূতাবাসের সামনের চিত্র ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। কয়েকশো বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হয়ে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। “বিপ্লব জিন্দাবাদ”, “খুনের বিচার চাই”—এই ধরনের স্লোগানে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা গমগম করতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই কালো ব্যাজ পরে এবং হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নামেন। তাঁদের দাবি ছিল, ওসমান হাদির হত্যার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
তবে এই বিক্ষোভ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টেনেটুনে এক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। শুরুতে পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও, বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং স্লোগান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় প্রশাসন দ্রুত সক্রিয় হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় দূতাবাস চত্বর ও আশপাশের রাস্তায়। ব্যারিকেড বসিয়ে বিক্ষোভকারীদের এগোনো আটকানো হয়।
এক পর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়—বেআইনি জমায়েত ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা না হওয়ায় পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। ধীরে ধীরে লাঠিচার্জ ও ধাওয়ার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এই সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। যদিও ঠিক কতজন আটক হয়েছেন, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশি তৎপরতার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে চট্টগ্রামে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে কোনও উত্তেজনা নেই। এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “জননিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনও রকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।”
ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে ‘বিপ্লব’-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল, চট্টগ্রামের ঘটনায় তার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। তাঁদের মতে, আবেগঘন স্লোগান আর ক্ষণস্থায়ী জমায়েত ছাড়া এই আন্দোলনের কোনও সুসংগঠিত রূপরেখা নেই। প্রশাসনের সামান্য কড়া পদক্ষেপেই বিক্ষোভ ভেঙে পড়ছে, যা তথাকথিত বিপ্লবী শক্তির দুর্বলতাকেই প্রকাশ করছে।
অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থকেরা দাবি করছেন, আন্দোলন এখনও শেষ হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশি দমন নীতি দিয়ে ক্ষোভ চেপে রাখা গেলেও বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, অন্তত এই মুহূর্তে চট্টগ্রামে ‘বিপ্লবে ইতি’ টানতেই বাধ্য হয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
সব মিলিয়ে, ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া উত্তাল পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। ভারতীয় দূতাবাসের সামনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং দ্রুত পদক্ষেপে পরিষ্কার, বাংলাদেশে কূটনৈতিক স্থাপনাকে ঘিরে কোনও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা মেনে নেওয়ার পথে হাঁটছে না সরকার।









