
সীমান্তে ফের ভয়াবহ র্ঘটনা।বাংলাদেশ–মায়ানমার (Bangladesh)সীমান্তের কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে। আহত যুবকের নাম মহম্মদ হানিফ। তিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সোমবার সকালে নাফ নদীর তীরবর্তী নিজের চিংড়ির ঘেরে যান মহম্মদ হানিফ। প্রতিদিনের মতোই ঘেরে রাখা নৌকা ও মাছ ধরার চাঁই ঠিক আছে কি না, তা দেখতেই সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আচমকাই একটি শক্তিশালী স্থলমাইন বিস্ফোরণ ঘটে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর আহত হন হানিফ। ঘটনাস্থলেই তার বাম পা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
‘মানুষকে হয়রান করছে কমিশন’! ৪৮ ঘণ্টায় ফের জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি মমতার
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা হানিফকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়। পরে তাকে দ্রুত উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ (মেডিসিন সঁ ফ্রঁতিয়ের) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এই মাইন বিস্ফোরণের ঘটনার পর হোয়াইক্যংসহ আশপাশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী জেলে ও চিংড়ি ঘের মালিকদের মধ্যে ভয় আরও বেড়েছে। নিরাপত্তার অভাবে আপাতত নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। বহু চিংড়ি ও কাঁকড়ার ঘেরেও কাজ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন আয়ে বড়সড় প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যে স্থানে বিস্ফোরণটি ঘটেছে সেটি মায়ানমার সীমান্ত থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থিত। অর্থাৎ সীমান্তের অনেকটা ভেতরে এসেও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। নাফ নদী এবং এর আশপাশে থাকা চিংড়ি ও কাঁকড়ার ঘেরগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু সীমান্তের অস্থিরতার কারণে সেই জীবিকা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত কয়েকদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। গোলাগুলি, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় সেখানে কার্যত যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। সেই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ–মায়ানমার সীমান্ত এলাকায়। সীমান্ত পেরিয়ে গুলি, শেল ও স্থলমাইনের ঝুঁকি ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় বহুদিন ধরেই স্থলমাইন থাকার আশঙ্কা থাকলেও সেগুলি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার জন্য কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে নদী বা ঘেরে কাজ করতে গিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিচ্ছেন। মহম্মদ হানিফের পা হারানোর ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই আরও নির্মমভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন, নাফ নদী ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় দ্রুত তল্লাশি চালিয়ে সব স্থলমাইন চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল ও জীবিকা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও নিতে হবে বলে মত তাঁদের।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল, মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত শুধু সে দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকায়। আহত মহম্মদ হানিফের চিকিৎসার পাশাপাশি এখন গোটা এলাকার মানুষ সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।










