
ঢাকা: বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে (Bangladesh)। ২১ বছরের হিন্দু যুবক জয় মহাপাত্র (কিছু সূত্রে ১৯ বছর বলা হয়েছে) মাত্র ৫০০ টাকা পাওনা নিয়ে দোকানদার আমিরুল ইসলামের মারধর ও অপমান সহ্য করতে না পেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার সূত্রপাত হয়, এবং পরের দিন শুক্রবার সকালে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়ের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনা স্থানীয় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।জয় মহাপাত্র ভাঙাডহর গ্রামের লিটন মহাপাত্রের ছেলে। পরিবারের সদস্য ও তার পিসতুতো ভাই অয়ন দাসের অভিযোগ, জয় বোরহানপুর গ্রামের মদরিস মিয়ার ছেলে মুদি দোকানদার আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে ৫,৫০০ টাকায় একটি মোবাইল ফোন কিস্তিতে কিনেছিলেন। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও শেষ ৫০০ টাকা দিতে কিছুটা দেরি হয়।
দেরিতে আসছে আয়কর রিফান্ড? জানুন আসল কারণ ও কীভাবে স্ট্যাটাস চেক করবেন
বৃহস্পতিবার সকালে টাকা দিতে গেলে আমিরুল তার ফোন কেড়ে নেন এবং অপমান করেন। সন্ধ্যায় আবার ফোন ফেরত নিতে গেলে দোকানে জয়কে মারধর করা হয়, লাঞ্ছিত করা হয় এবং ফোনটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি। অপমান ও মারধরের পর জয় একই দোকান থেকে ইঁদুর মারার বিষ কিনে বাড়ি ফিরে বিষপান করেন।জয়ের মা শেলি মহাপাত্র বলেছেন, “আমার ছেলেকে এভাবে অপমান করা হয়েছে যে সে আর মুখ দেখাতে পারেনি।
আমিরুলের আচরণের জন্যই এই ঘটনা।” পরিবারের অভিযোগ, এটি শুধু ঋণের বিষয় নয়, বরং ইচ্ছাকৃত অপমান ও নির্যাতন। কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে আমিরুল পরিকল্পিতভাবে জয়কে ডেকে এনে নির্যাতন করেছেন।অন্যদিকে অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জয়ের কাছে তার মোট ২,৮০০ টাকা (মোবাইলের বাকি + ফ্লেক্সিলোড) পাওনা ছিল।
তিনি শুধু টাকা না পাওয়ায় ফোন ফেরত চেয়েছেন, কোনও মারধর বা অপমান করেননি। পুলিশ এখনও এই ঘটনায় কোনও আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করেনি, তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে তদন্ত শুরু হয়েছে।এই ঘটনা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ ও অপমানের প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্ক তুলেছে।
সম্প্রতি নরসিংদীতে আরও এক হিন্দু ব্যক্তি সারত চক্রবর্তী মণির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এই মৃত্যুকে “সংখ্যালঘু নির্যাতনের” উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। হিন্দু সংগঠনগুলোর তরফ থেকে বলা হয়েছে, এমন ঘটনা বারবার ঘটছে এবং প্রশাসনের নীরবতা উদ্বেগজনক।










