
২০২৪–২৫ অর্থবর্ষের (অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৫–২৬) ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) দাখিলের বর্ধিত শেষ তারিখ ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সেই সময়সীমা পেরিয়ে তিন মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেলেও এখনও বহু করদাতা তাঁদের রিফান্ড পাননি। সাধারণত রিটার্ন প্রসেস হওয়ার পর এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই রিফান্ড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসে। কিন্তু এ বছর অস্বাভাবিক দেরি হচ্ছে অনেকের ক্ষেত্রেই।
তবে এই দেরি আইনত ভুল নয়। আয়কর আইনের ধারা ১৪৩(১) অনুযায়ী, আয়কর দপ্তর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত FY ২০২৪–২৫-এর রিটার্ন প্রসেস করার সময় পায়। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে রিফান্ড দেওয়া আইনগতভাবে বৈধ।
কেন দেরি হচ্ছে আয়কর রিফান্ড?
সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে উচ্চ অঙ্কের রিফান্ডে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়া। সিবিডিটি চেয়ারম্যান রবি আগরওয়াল জানিয়েছেন, অনেক বড় অঙ্কের রিফান্ডে কিছু ডিডাকশন সংক্রান্ত গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা 80C, 80D বা HRA-এর মতো ছাড় রিটার্নে দাবি করেছেন কিন্তু TDS কাটার সময় নিয়োগকর্তাকে জানাননি, তাঁদের রিটার্নে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট ইন্টিমেশন পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চাইছে, উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত রিফান্ড আটকে থাকছে।
এছাড়া CBDT-এর ‘Nudge’ ক্যাম্পেনও দেরির অন্যতম কারণ। ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে যেসব রিটার্নে অসঙ্গতি ধরা পড়ছে, সেই করদাতাদের SMS ও ইমেলের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। যতক্ষণ না করদাতা সংশোধিত বা আপডেটেড রিটার্ন দেন বা পার্থক্য মেনে নেন, ততক্ষণ রিফান্ড ছাড় করা হচ্ছে না।
অনেক সময় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ভুল তথ্য দেওয়ার কারণেও রিফান্ড ফেল হয়। আবার কারও যদি পুরনো কর বকেয়া থাকে, তা সমন্বয় করার পরেই রিফান্ড দেওয়া হয়। ই-ভেরিফিকেশন ৩০ দিনের মধ্যে না হলে রিটার্ন প্রসেসই হয় না।
আরও একটি বড় কারণ হলো Form 26AS, AIS বা TIS-এর সঙ্গে রিটার্নের ডেটা না মেলা। বড় ধরনের মিসম্যাচ থাকলে রিটার্ন “Defective” হয়ে যায় এবং সংশোধন না করা পর্যন্ত রিফান্ড আটকে থাকে। যাঁরা ITR-V ডাকযোগে পাঠিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন দেরি হওয়াও একটি সমস্যা।
কীভাবে রিফান্ডের স্ট্যাটাস দেখবেন? Income Tax Refund Delay FY 2024-25
আপনি incometax.gov.in পোর্টালে লগইন করে e-File > Income Tax Returns > View Filed Returns-এ গিয়ে স্ট্যাটাস দেখতে পারেন। এছাড়া TIN-NSDL সাইট বা নিজের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট থেকেও রিফান্ড ক্রেডিট হয়েছে কিনা জানা যায়।
দেরি হলে কি সুদ পাওয়া যায়?
হ্যাঁ। আয়কর আইনের ধারা ২৪৪A অনুযায়ী, রিফান্ড দেরিতে এলে বছরে ৬ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হয়। তবে এই সুদ তখনই প্রযোজ্য, যখন দেরির জন্য করদাতার কোনো ভুল বা তথ্যের ঘাটতি দায়ী না থাকে।







