ঢাকা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের (BNP leader)উপর হামলা এবং নির্যাতনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মানিকগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ লিটনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি প্রকাশ্য সভায় বলেন, “হিন্দুরা যদি বিএনপিকে ভোট না দেয়, তাহলে বাংলাদেশে তাদের থাকার অধিকার থাকবে না।”
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটাকে সরাসরি সাম্প্রদায়িক হুমকি এবং গণহত্যার প্ররোচনা বলে মনে করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ধরনের বক্তব্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
জল্পনার অবসান, লোন ডিলে বিদেশে গেলেন নোয়া
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, মানিকগঞ্জের একটি নির্বাচনী সভায় ফারুক আহমেদ লিটন বলছেন, “যারা বিএনপিকে ভোট দেবে না, তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবে না। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা যদি ভোট না দেয়, তাহলে তাদের এদেশে থাকার কোনও অধিকার নেই।” এই বক্তব্যের পর সভাস্থলে উপস্থিত লোকজনের করতালি এবং সমর্থনের শব্দ শোনা যায়।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মিডিয়া এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর নিন্দা করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।বিএনপির পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের পর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও আসেনি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চুপ থাকলেও স্থানীয় নেতারা বলছেন, এটা ব্যক্তিগত মতামত।
তবে সমালোচকরা বলছেন, একজন মনোনীত প্রার্থীর এমন বক্তব্য দলের নীতিরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, “এটা সরাসরি সাম্প্রদায়িক হুমকি।
নির্বাচনের আগে এমন বক্তব্য হিন্দুদের উপর হামলাকে আরও উস্কে দেবে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করব।” তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা বেড়েছে, এবং এখন নির্বাচনী প্রচারে এমন হুমকি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। ভারতের বিজেপি নেতারা বলছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর ‘গণহত্যা’ চলছে এবং নির্বাচনের পর তা আরও বাড়বে। যদিও বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এখনও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও গভীর করবে।
