
মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে যখন বাবরি মসজিদ ঘিরে উত্তাপ ক্রমশ চড়ছে, ঠিক সেই সময়ই জঙ্গিপুর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক জাকির হোসেন। ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি ঘোষণা করলেন, নিজের বিধানসভা এলাকাতেই পাশাপাশি গড়ে উঠবে একটি মসজিদ এবং একটি মন্দির।
ধর্ম বিভেদের হাতিয়ার নয়
শনিবার বিকেলে সুতির বংশবাটি গ্রামে এক জনসভা থেকে জাকির হোসেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ধর্ম কখনও বিভেদের হাতিয়ার হতে পারে না। বরং ধর্মীয় সহাবস্থানই সমাজের স্থিতি ও শান্তির মূল ভিত্তি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গিপুর বিধানসভা এলাকায় উপযুক্ত ধর্মীয় উপাসনালয়ের অভাব রয়েছে। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই এই যুগপৎ উদ্যোগ।
বিধায়ক জানান, প্রস্তাবিত এই মসজিদ ও মন্দির নির্মাণের জন্য তিনি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই অর্থ ব্যয় করবেন। প্রতিটি উপাসনালয়ের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা দানের ঘোষণা করেছেন তিনি। প্রয়োজনে নিজের সম্পত্তি বিক্রি করেও এই অর্থ জোগাড় করবেন বলে জানান জাকির হোসেন।
বিধানসভা নির্বাচন শেষ না হলে নির্মাণকাজ নয়
তবে রাজনৈতিক সময়চক্রের বিষয়টিও মাথায় রেখেছেন তিনি। স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্মাণকাজ শুরু হবে না। তাঁর বক্তব্য, “কেউ যেন বলতে না পারে ধর্মকে ভোটের হাতিয়ার করছি। তাই নির্বাচন মিটলেই কাজ শুরু হবে।”
জাকির হোসেন জানান, শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও মহম্মদী মসজিদ—দু’টির জন্যই পৃথক পৃথক ট্রাস্ট গঠন করা হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ—সব স্তরের প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে সরকারি বিধি মেনেই নির্মাণকাজ হবে। মসজিদের জন্য ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে জমি এবং মন্দিরের জন্য সরকারি খাস জমি বরাদ্দের আবেদন জানাতে রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ করবেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, কেউ ব্যক্তিগতভাবে জমি দান করতে চাইলে সেই প্রস্তাবও গ্রহণ করা হবে।
পর্যটনে নয়া পালক
এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় স্তরে ইতিমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। জঙ্গিপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মতে, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্তই হবে না, মুর্শিদাবাদ জেলার পর্যটন মানচিত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করবে। ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদের আগমন বাড়লে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।
রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি গৌতম ঘোষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “একই এলাকায় মন্দির ও মসজিদের সহাবস্থান মুর্শিদাবাদের সামাজিক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করবে। সৌভ্রাতৃত্বের এমন ছবি আগামী দিনে নজির হয়ে থাকবে।”
রাজ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে, জঙ্গিপুর থেকে উঠে আসা এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।










