HomeTop Stories‘ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীর স্থান নেই’, তৃণমূলকে বুঝিয়ে দিল কমিশন

‘ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীর স্থান নেই’, তৃণমূলকে বুঝিয়ে দিল কমিশন

- Advertisement -

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজনৈতিক পরিবেশ আরও তপ্ত হয়ে উঠেছে। কোথাও ব্লক লেভেল অফিসারের মৃত্যুর খবর, কোথাও আবার অভূতপূর্ব গতিতে এগোচ্ছে ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ—দুটি বিপরীতমুখী বাস্তবতা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে।

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের দফতরে পৌঁছয় তৃণমূল কংগ্রেসের দশ সদস্যের প্রতিনিধিদল। সূত্রের খবর, কমিশন প্রতিনিধি দলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক বক্তব্য থাকতেই পারে, কিন্তু এসআইআর নিয়ে কোনও ভুল তথ্য ছড়ানো চলবে না, এবং বিএলওদের প্রতি হুমকি বা চাপের অভিযোগ একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। কমিশনের একাধিক আধিকারিক তৃণমূল প্রতিনিধিদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, “নির্বাচন আইন স্পষ্ট—শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকই ভোট দেবেন। অনুপ্রবেশকারীর নাম কোনও অবস্থাতেই তালিকায় থাকতে পারে না।”

   

তৃণমূলের কড়া প্রতিক্রিয়া: বিজেপিই হুমকি দিচ্ছে

কমিশনের বার্তার পর তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে—বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছে বিজেপিই। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “গুজরাটেও তো বিএলও আত্মহত্যা করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন যে বিএলওদের জেলে ঢোকানো হবে—সেই ঘটনায় কমিশন কেন কোনও ব্যবস্থা নিল না?”

তৃণমূলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে SIR নিয়ে বিজেপিরই ‘রাজনৈতিক প্রচার’ ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং মাঠের কর্মীদের আতঙ্কিত করছে।

বিজেপির পাল্টা সুর: নির্বাচন ‘পবিত্রতা’ রক্ষার নির্দেশ TMC BJP Clash Election Commission

বিজেপি অবশ্য কমিশনের বার্তাকে তাদের অবস্থানের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা করছে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ফুল বেঞ্চ তৃণমূলকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছে—নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা করুন। ডিজিটাইজেশনে রাজ্য এগিয়ে থাকলেও মাঠে বিভ্রান্তি তৈরি করছে তৃণমূলই।”

বিজেপির দাবি, রাজ্যের বিএলওরা ৮৫ শতাংশ ফর্ম ইতিমধ্যেই ডিজিটাইজ করেছেন—ফলে পশ্চিমবঙ্গ এখন ভারতের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে।

রাজ্যে নামছে বিশেষ পর্যবেক্ষক দল

এসআইআর বিতর্কের উত্তাপে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আরও কঠোর হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে আসছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। তিনি জেলার পর জেলা ঘুরে SIR প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন আরও ১২ জন আইএএস পর্যায়ের আধিকারিক। প্রতিটি রিপোর্ট সোজা পৌঁছবে কমিশনের টেবিলে।

ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে অস্থিরতা

এসআইআর নিয়ে প্রশাসনিক চাপ, কমিশনের সতর্কবার্তা, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি সুর—সব মিলিয়ে রাজ্যে এক নতুন সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।
মূল প্রশ্ন এখন একটাই—স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে গিয়ে কি আরও গভীর হচ্ছে রাজনৈতিক বিভাজন?

এসআইআর চলাকালীন এই উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তার ইঙ্গিত মিলছে রাজনৈতিক দুই শিবিরের প্রতিটি বক্তব্যেই।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular