শুভেন্দু অধিকারীর গাড়ির পিছনে দৌঁড়েছিলেন। বিরোধী দলনেতার পা ছুঁয়ে প্রণামও করেন। তাঁকে দেখে খুশি হয়ে পদ্ম উপহার দেন শুভেন্দু। সেই সুনীল সিং (Sunil Singh) বিজেপির বিরুদ্ধেই সুর চড়ালেন তৃণমূলের মঞ্চ থেকে। মাস দুয়েকের মধ্যে অভিনব রাজনৈতিক রঙ্গর সাক্ষী থাকল ব্যারাকপুরের লেনিননগর।
রবিবার এই লেনিননগরেই সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার পালটা সভা করে তৃণমূল। সাংসদ পার্থ ভৌমিক, বিধায়ক মঞ্জু বসুর পাশাপাশি দেবাংশু ভট্টাচার্য, অরূপ চক্রবর্তীর মতো নেতারা ছিলেন। সেই মঞ্চেই ছিলেন সুনীল সিং। চার মিনিটের বক্তব্যে তুলে ধরেন তৃণমূলের জন্য তাঁর কীর্তি। সেই সঙ্গে দাবি করেন যে ছাব্বিশের ভোটে ব্যারাকপুরের সাত আসনেই ফুটবে ঘাসফুল।
গারুলিয়ার দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর ছিলেন সুনীল সিং। দুই দফায় তৃণমূলের পুরপ্রধানও হন। ২০১৮ সালের উপনির্বাচনে জিতে নোয়াপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক হন। পরের বছর দলবদল করে যোগ দেন পদ্ম শিবিরে। তখন তাঁর আত্মীয় অর্জুন সিং বিজেপির সাংসদ। একুশের ভোটে নোয়াপাড়ায় বিজেপির হয়ে লড়ে হেরে যান সুনীল। বাইশের পুরভোটে পদ্ম প্রার্থী হয়েও তৃণমূলে যোগ দেন। বিজেপির ভরাডুবি হয়। তারপর তৃণমূলের কর্মসূচিতেও সুনীলের সক্রিয়তা দেখা যায়নি। শোনা যায়, চব্বিশের ভোটে গোপনে বিজেপি প্রার্থী অর্জুনের হয়ে কাজ করেন তিনি।
প্রায় হারিয়ে যাওয়া সুনীল সিং শিরোনামে উঠে আসেন শুভেন্দু অধিকারীর সৌজন্যে। গত তেইশে অক্টোবর তাঁকে পদ্ম ফুল উপহার দেন বিরোধী দলনেতা। তৃণমূল নেতৃত্বের উপরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন সুনীল সিং। মঙ্গলবার সেই সুনীলের গলায় হুঙ্কার। বিজেপির বিরুদ্ধে সুর একেবারে সপ্তমে। সেই সঙ্গে বলেন, “২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়া আমার দুর্ভাগ্য ছিল।”
সুনীল সিংয়ের শ্যালক বিজেপির বাহুবলী নেতা অর্জুন সিং। ভাইপো কুন্দন সিং ব্যারাকপুরে বিজেপির যুব সভাপতি। এই সুনীলের অবস্থান নিয়ে জল্পনা জোরাল। ব্যারাকপুরের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, ছাব্বিশে ফের নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী হওয়ার ছক কষছেন সুনীল। তাঁর মাথায় শুভেন্দুর হাত রয়েছে। কিন্তু পদ্ম শিবিরের বড় অংশের বিরোধিতায় পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সেই সুনীলই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন। তাও আবার তৃণমূলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে।
