
মুর্শিদাবাদ: উড়িষ্যার সম্বলপুর জেলায় কাজ করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর মুখে পড়লেন এক পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant worker)। অভিযোগ, বাংলাদেশি সন্দেহে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের হাতে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে মুর্শিদাবাদের যুবক জুয়েল শেখ (২১)-কে। এই ঘটনায় দুই রাজ্য—পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত যুবকের বাড়ি মুর্শিদাবাদের সুতি থানার অন্তর্গত চকবাহাদুরপুর গ্রামে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে কয়েকদিন আগেই উড়িষ্যার সম্বলপুরে কাজ করতে যান জুয়েল। সেখানে অন্যান্য বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে তিনি একটি নির্মাণ সংস্থার অধীনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। কাজের সুবিধার্থে তাঁরা সকলে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। অভিযোগ, ঘটনার দিন গভীর রাতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ওই বাড়িতে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে এবং শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করে মারধর শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, কোনও পরিচয়পত্র যাচাই না করেই জুয়েল শেখের উপর নৃশংস আক্রমণ চালানো হয়। লাঠি, রড এবং ঘুষি-লাথির আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। শুধু জুয়েলই নন, তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন শ্রমিককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় কিছু মানুষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে জুয়েলের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হয়ে পড়ে।
আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সম্বলপুর এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, জুয়েলের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছাতেই মুর্শিদাবাদের চকবাহাদুরপুর গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। গ্রামবাসীদের মতে, সংসারের হাল ধরতেই ভিনরাজ্যে গিয়েছিলেন জুয়েল।
পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে মারধরের ফলেই জুয়েলের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার শ্রমিকদের উপর এ ধরনের হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
ঘটনার পর সম্বলপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনা আবারও পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচয় যাচাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশি সন্দেহে আক্রমণ করা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। জুয়েল শেখের মৃত্যু ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।










