মুর্শিদাবাদ জেলার ইসলামপুর থানার অভিযানে একাধিক বিদেশি নাগরিক আটক হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। পুলিশ সূত্রে খবর, ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ইসলামপুর থানার একটি বিশেষ দল হরিশি গ্রাম পঞ্চায়েতের চার গোপালপুর গ্রামে হানা দেয়। সেখানে এক ভারতীয় নাগরিক সহ মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়। আটক হওয়াদের মধ্যে ১২ জনই বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি পুলিশের, যাঁরা কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই ভারতে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানায়, গোপালপুরেরই বাসিন্দা সাবের আলি (৩১) দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাড়িতে বাইরের ব্যক্তিদের আশ্রয় দিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবারের অভিযানে তাঁর বাড়ি থেকেই আটক করা হয় বাকিদের। যাদের পরিচয় হিসেবে পুলিশ জানিয়েছে—মো. আওয়াল (২৫), আব্দুল খালেক (৩৮), সুমন আলি (৩০), শুকুদ্দিন (২৬), খবির (১৯), শহিদুল (৩৫), মো. সাব্বির (২২), মো. জিয়ারুল হক (৩৮), মাজদার আলি (৩৬), মো. খায়রুল (২৭), মো. রনি (২৩), এবং রুহুল আমিন (৩৪)।
‘সুদর্শন চক্র’ আরও শক্তিশালী: রাশিয়ার পাঁচ নতুন S-400 স্কোয়াড্রনের দিকে ভারত
ইসলামপুর থানার কর্মকর্তারা জানান, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল যে সীমান্তবর্তী এই গ্রামে কিছু বিদেশি নাগরিক নাকি বহুদিন ধরে বৈধ নথি ছাড়া বসবাস করছেন। সেই তথ্য যাচাই করতেই পুলিশ অভিযানে নামে। স্থানীয় মানুষও আকস্মিক এই তল্লাশি ও আটক প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রথমে কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, যদিও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ সূত্রের দাবি, অভিযান চলাকালীন আটক ব্যক্তিরা ভারতের কোনোরকম পাসপোর্ট, ভিসা বা আইনি নথি দেখাতে পারেননি। প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে আসার কথাও স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তাদের ভারতে প্রবেশের উপায়, উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সহযোগী এবং তারা পূর্বে কোথায় কোথায় অবস্থান করেছিলেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, একজন ভারতীয় নাগরিকের বাড়িতে এতজন বিদেশির অবস্থান ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সাবের আলির বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিককে অবৈধভাবে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য—এটি শুধু বৈধ নথিহীন অবস্থান নয়, বরং এই অঞ্চলে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের একটি বড় চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে গোটা ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছে জেলা পুলিশ।
৩৪ নম্বর চার গোপালপুর গ্রামটিতে সীমান্তবর্তী এলাকার মতোই বহুদিন ধরেই বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ে সন্দেহ ছিল বলে দাবি কিছু বাসিন্দার। তবে তারা পরিষ্কার জানান, “কেউ আসলে আমরা বুঝতে পারি না। সাধারণ শ্রমিক হিসেবেই সবাইকে দেখতে লাগে।” তাঁদেরই একাংশের মতে, পুলিশি অভিযানের পর গ্রামে নিরাপত্তা বাড়ানো দরকার।
সমস্ত অভিযুক্তকে ২৯ নভেম্বর লালবাগের লেডি অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ACJM)-এর আদালতে পেশ করা হবে। সেখানে তাদের হেফাজতের বিষয়টি নিয়ে শুনানি হবে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই মামলায় ফরেনার্স অ্যাক্টসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হতে পারে। একইসঙ্গে সীমান্ত ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও এই ঘটনায় নজর রাখছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এই ১২ জন ঠিক কীভাবে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলেন, পিছনে কোনো বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, কিংবা এরা অন্য কোথাও এর আগে অবস্থান করেছে কি না—এসব তথ্য নির্ণয় করা। এই ঘটনা নতুন করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ প্রবেশের ইস্যুতে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটকদের সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
