মুর্শিদাবাদ: পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় আবারও বোমা সন্ত্রাসের ছায়া নেমেছে। সোমবার সকালে কুপিলা বিশ্বাস পাড়া এলাকায় পুলিশের গোপন সূত্রের সাহায্যে তিনটি প্লাস্টিক জার থেকে মোট ৭০টি সকেট বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এই বোমাগুলো ছিল তাজা অবস্থায়, যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারত। ঘটনাস্থলকে অবিলম্বে সিল করে দেওয়া হয়েছে, এবং বোম ডিসপোজাল স্কোয়াড এবং সিআইডি-এর দলকে সেখানে পাঠানো হয়েছে।
এই উদ্ধার স্থানীয়বাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধারাবাহিক ভাবে এই বোমা উদ্ধার নিরাপত্তার উপর প্রশ্ন তুলেছে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, এই বোমাগুলো কোনো অজ্ঞাত অপরাধী চক্রের কাছে লুকানো ছিল। কুপিলা বিশ্বাস পাড়া একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, যেখানে কৃষি জমির পাশে এই জারগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয়রা বলছেন, তারা কয়েকদিন ধরে সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করেছিলেন, কিন্তু ভয়ে কিছু বলেননি।
‘আমাদের শরীয়তের সঙ্গে খেলনা!’ AIMIM নেতার মন্তব্যে চাঞ্চল্য
একজন বয়স্ক বাসিন্দা বললেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই, কিন্তু এই বোমা দেখে মনে হচ্ছে যেন যুদ্ধের ময়দানে চলে এসেছি। নির্বাচনের নামে এসব কী চলছে?” পুলিশের দল সকাল ৮টার দিকে এলাকায় পৌঁছে সার্চ অপারেশন শুরু করে, এবং জারগুলো খুলতেই চোখ কপালে উঠে যায়। প্রত্যেক জারে ২০-২৫টি করে সকেট বোমা ছিল, যা সাধারণত দেশীয়ভাবে তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক হিংসায় ব্যবহৃত হয়।
মুর্শিদাবাদের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন নয়। এই জেলা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত, যা অবৈধ অস্ত্র পাচারের জন্য কুখ্যাত। সাম্প্রতিককালে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান (এসআইআর) শুরুর পর থেকে এখানে বোমা উদ্ধারের ঘটনা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডোমকাল, গুধিয়া এবং সালার এলাকায় ৮০টিরও বেশি ক্রুড বোমা পাওয়া গেছে, যা মোট উদ্ধারের সংখ্যা ৭৭৩-এ পৌঁছে গেছে।
দুই দিনের মধ্যে ১৫০টি বোমা উদ্ধারের খবরও এসেছে, যার মধ্যে খাগড়ামের এক মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট বাড়ি থেকে ৯টি বোমা পাওয়া গেছে। বিএসএফ এবং পুলিশ ড্রোন ব্যবহার করে সংবেদনশীল এলাকা খুঁজছে। এই বোমাগুলোর উৎস সম্ভবত সীমান্ত পারের পাচারকারী নেটওয়ার্ক, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার হয়।
