
তমলুক: দুর্গাপূজার ঠিক আগেই তমলুক শহরের মিলননগর এলাকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর সোনার দোকান ডাকাতির (jewellery robbery case) ঘটনায় অবশেষে বড় সাফল্য পেল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। প্রায় দু’মাস ধরে পলাতক থাকা এই ঘটনার মূল চক্রী মূল্য পান্ডাকে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং ডাকাতির সময় লুট হওয়া সোনার গয়না।
গত দুর্গাপূজার আগে শহরে কেনাকাটার ভিড় যখন চরমে, ঠিক সেই সময়েই দিনে দুপুরে মিলননগরের একটি ব্যস্ত সোনার দোকানে ঢুকে পড়ে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী। দোকানের কর্মচারীদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়ে তারা নগদ ও বিপুল পরিমাণ সোনার অলংকার লুট করে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রকাশ্যে এই দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় গোটা তমলুক শহরজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই তমলুক থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় সূত্র এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির সাহায্যে মাত্র চার দিনের মধ্যেই তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে তদন্তে উঠে আসে, এই গোটা ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও অস্ত্র জোগানদাতা মূল্য পান্ডা। সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাজ্যের বাইরে পালিয়ে যায়।
এরপর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের একাধিক টিম রাজ্যের বাইরে অভিযান চালাতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ট্র্যাকিং, লোকেশন অ্যানালাইসিস ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অবশেষে তার অবস্থান চিহ্নিত হয় উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। সেখানেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশের একটি দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত মূল্য পান্ডার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি পিস্তল, দশটি তাজা কার্তুজ এবং বেশ কয়েকটি সোনার চেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া অলংকারগুলি তমলুকের মিলননগরের ওই ডাকাতির ঘটনার সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত। পাশাপাশি, ধৃতের সঙ্গে একটি সক্রিয় আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্রের যোগ থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
গ্রেফতারের পর মূল্য পান্ডাকে ট্রানজিট রিমান্ডে পূর্ব মেদিনীপুরে আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ মনে করছে, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ডাকাতি চক্রের বাকি সদস্য, অস্ত্রের উৎস এবং লুট হওয়া বাকি সোনার হদিশ পাওয়া যেতে পারে।
এই বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে শীঘ্রই সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মূল পান্ডা গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে মিলননগর এলাকার ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। জেলা পুলিশের এই সাফল্যে তদন্ত আরও দ্রুত এগোবে বলেই মনে করা হচ্ছে।










